
রাশিয়ার চেচনিয়া অঞ্চলে তিন সন্তানের জননী ২৫ বছর বয়সী জুখরা মুজায়েভার নিখোঁজ হওয়া নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, জুখরাকে তাঁর নিজের বাবা সামরাদি মুজায়েভ হত্যা করেছেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, স্বামীর সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহে পারিবারিক সম্মান রক্ষার দোহাই দিয়ে এই ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। তবে জুখরা সত্যিই নিহত হয়েছেন কি না, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, চেচনিয়ার কুরচালয় গ্রামে বসবাসকারী জুখরা গত এপ্রিল মাস থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। নিখোঁজের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁর বাবা সামরাদি মুজায়েভ পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। শুরুতে তিনি দাবি করেছিলেন যে জুখরা সুস্থ ও জীবিত আছেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জানান যে তাঁর মেয়ে বিদেশে চলে গেছেন। তবে তিনি কোথায় আছেন, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, মৃত্যুর আগে জুখরাকে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে মাথা ন্যাড়া করে নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে গুলি করে হত্যা করা হয়। জুখরার স্বামী ইয়াকুব মাগোমাদভ বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর হয়ে লড়াই করছেন। কিশোরী বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসা জুখরা ১৭ বছর বয়সে যমজ সন্তানের মা হয়েছিলেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ককেশাস নটসহ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জুখরার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা থাকলেও হত্যার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন অধিকারকর্মীরা। পরিবারের সম্মান রক্ষার নামে এমন নৃশংসতার অভিযোগটি সত্য কি না, তা নিয়ে এখনো তদন্ত ও অনুসন্ধানের দাবি জোরালো হচ্ছে।