• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী ভিসায় বড় পরিবর্তন: চাকরি হারালে ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব মক্কা চুক্তির পর ইয়েমেনে সৌদি জোটের ব্যাপক বিমান হামলা, উত্তপ্ত পরিস্থিতি ২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন শেষ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর, সময় আর বাড়বে না শনিবার ভারতে শুরু হচ্ছে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন, পুতিনসহ বিশ্বনেতাদের আগমন যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে অসুস্থ মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস, গৃহবন্দিত্বের আবেদন আইনজীবীদের রাজধানীর লালবাগে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর রহস্যজনক অন্তর্ধানের ঘটনায় বন্ধু গ্রেপ্তার প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও এনআইডি সেবা সহজ করতে ৪১ দেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর ওপর বাড়তি দায়িত্ব অর্পণ করল সরকার শাহজালাল বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে ৩৮ লিটার বিদেশি মদ জব্দ, আটক সাত

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী ভিসায় বড় পরিবর্তন: চাকরি হারালে ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব

রিপোর্টার: / ২ পঠিত
আপডেট: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় ধরনের নীতি পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বর্তমানে চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার জন্য বিদেশি কর্মীদের যে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বা সুযোগ দেওয়া হয়, তা বাতিলের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে এইচ-১বিসহ বিভিন্ন অস্থায়ী ভিসাধারীদের চাকরি শেষ হওয়ার পরপরই দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ফেডারেল রেজিস্টারে এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বিষয়টি প্রকাশ করেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে দক্ষ বিদেশি কর্মীরা চাকরি হারানোর পর এই ৬০ দিনের সুযোগ পেয়ে আসছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তারা নতুন স্পনসর খোঁজা, বাড়ি বিক্রি বা সন্তানদের স্কুল পরিবর্তনের মতো ব্যক্তিগত বিষয়গুলো গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেতেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই সুবিধা আর থাকবে না।

অবশ্য ডিএইচএস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পর যদি কোনো কর্মী নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে পান, তবে তিনি পুনরায় ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এই পরিবর্তন প্রযুক্তি খাতের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ১৯৯০ সালে চালু হওয়া এইচ-১বি ভিসা মূলত বিশেষ দক্ষতার কর্মী নিয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয়, যার ওপর ভারত ও চীনের মতো দেশ থেকে আসা কর্মীরা এবং বড় বড় প্রযুক্তি ও আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

ডেলয়েট, পিডব্লিউসি, আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের মতো পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস, এইচসিএল টেক ও এলটিআইমাইন্ডট্রির মতো বড় এইচ-১বি স্পনসররা এই পরিবর্তনের ফলে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বেরার্ডি ইমিগ্রেশন ল-এর আইনজীবীদের মতে, এই নিয়ম কার্যকর হলে বিদেশি কর্মীদের ছাঁটাই বা চাকরি ছাড়ার প্রক্রিয়া পরিচালনায় মানবসম্পদ বিভাগগুলোর হাতে সময় অনেক কমে যাবে।

ডিএইচএস অবশ্য দাবি করেছে, নতুন এই নিয়মের ফলে কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মী ব্যবস্থাপনায় সাময়িক সমস্যা হলেও, এর মাধ্যমে খালি হওয়া পদগুলোতে মার্কিন নাগরিকদের নিয়োগের সুযোগ বাড়বে।

প্রস্তাবিত এই পরিবর্তন শুধু এইচ-১বি ভিসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এর আওতায় ই-১ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ভিসা, ই-২ ভিসা, এল-১ ভিসা (আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও ব্যবস্থাপক), ও-১ ভিসা (বিজ্ঞান, ক্রীড়া বা শিল্পকলায় অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন), এইচ-১বি১ (সিঙ্গাপুর ও চিলির কর্মীদের জন্য) এবং ই-৩ (অস্ট্রেলিয়ার কর্মীদের জন্য) ভিসাগুলোও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে কাজ করছেন। বৈধ অভিবাসন সীমিত করা এবং ভিসা ফি বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে মার্কিন মিশনে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার স্থগিত করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে তার প্রশাসন।

বর্তমানে এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত নয়। এটি কার্যকর করার আগে আগামী দুই মাস জনমত গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো তাদের মতামত জানাতে পারবে। প্রাপ্ত সব মতামত পর্যালোচনার পরই মার্কিন প্রশাসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে প্রস্তাবিত নিয়মটি এখনো কার্যকর হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ