
কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিবন্ধিত সব ধরনের উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আলজেরিয়া। এই সিদ্ধান্তের ফলে এমিরেটস, ইতিহাদ, ফ্লাইদুবাই ও এয়ার আরাবিয়ার মতো আমিরাতভিত্তিক প্রধান বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট পরিচালনায় বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলোকে এখন আলজেরিয়ার আকাশসীমা এড়িয়ে দীর্ঘ বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।
আলজেরিয়ার এই আকস্মিক পদক্ষেপের পেছনে দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা কূটনৈতিক উত্তেজনাকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আলজেরিয়ার পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, লিবিয়া, ইয়েমেন ও সুদানের বিভিন্ন আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থন দিচ্ছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটেই আমিরাতের বিমান চলাচলের ওপর এই নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যদিও বর্তমানে কোনো আমিরাতি বিমান সংস্থা আলজেরিয়ায় নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে না, তবুও আগে থেকে পাওয়া আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল।
নিষেধাজ্ঞার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আমিরাতের বিমান সংস্থাগুলোর রুট পরিকল্পনায়। এমিরেটস এরই মধ্যে আলজিয়ার্সে তাদের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে। এছাড়া ইতিহাদের মৌসুমি আবুধাবি-মালাগা এবং প্রতিদিনের কাসাব্লাঙ্কা রুটের ফ্লাইটগুলোকেও এখন আলজেরিয়ার আকাশসীমা এড়িয়ে নতুন পথে পরিচালনা করতে হচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে বিমান সংস্থাগুলোর উড়ানপথ দীর্ঘ হওয়ায় জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি যাত্রার সময়ও বেড়ে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ফ্লাইট সূচিতে বিলম্বের ঝুঁকি তৈরি করছে।
আলজেরিয়া এখনো এই নিষেধাজ্ঞা কতদিন কার্যকর থাকবে বা এর আওতা কতটুকু, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। এছাড়া মানবিক সহায়তা বা জরুরি পণ্যবাহী ফ্লাইটের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে কি না, সেটিও এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা আমিরাতের বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট সূচি ও রুট ব্যবস্থাপনায় আরও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকার ব্যস্ত আকাশপথে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলোকে এই নতুন বিধিনিষেধের প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে সামলাতে হতে পারে।