
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস হলের ১ নম্বর লাগেজ বেল্ট সংলগ্ন একটি ওয়াশরুমে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। শনিবার বিকেলে সংস্থাটির বিমানবন্দর সার্কেলের একটি বিশেষ টিম এই সফল অভিযানটি পরিচালনা করে। ওয়াশরুমের হাই কমোডের ট্যাঙ্কের ভেতর থেকে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় পলিথিনে মোড়ানো ডিমের আকৃতির আটটি প্যাকেট জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব প্যাকেটের ভেতরে পেস্ট আকারে প্রায় ৪ দশমিক ২০৪ কেজি স্বর্ণ ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে এই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। উদ্ধার করা স্বর্ণের চূড়ান্ত বিশুদ্ধতা এবং প্রকৃত বাজারমূল্য যাচাই করতে বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
একই দিনে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে স্বর্ণ পাচারের সময় আরও এক ব্যক্তিকে আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বেনাপোল সার্কেল। গত ১৯ সেপ্টেম্বর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বেনাপোল ইমিগ্রেশন এলাকার জিরো পয়েন্টে এই অভিযান চালানো হয়। আটক হওয়া ব্যক্তির নাম আল মামুন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি শরীরে স্বর্ণ বহনের কথা অস্বীকার করলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তার শরীরের এক্স-রে করানো হলে রেকটামে সন্দেহজনক বস্তুর অস্তিত্ব ধরা পড়ে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি শরীরের ভেতরে লুকিয়ে স্বর্ণ পাচারের বিষয়টি স্বীকার করেন।
এই অভিযানে আল মামুনের কাছ থেকে ৮২ গ্রাম ওজনের স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। জব্দ করা স্বর্ণের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ হিসেবে তা বেনাপোল কাস্টম হাউসে জমা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উদ্ধারকৃত স্বর্ণের সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। বিমানবন্দরের ওয়াশরুমে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এবং বেনাপোল সীমান্তে শরীরের ভেতরে লুকিয়ে রাখা—উভয় ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সময় ভারতগামী এক যাত্রী আল মামুনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে তার বক্তব্যে সন্দেহ থাকায় আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার শরীরের এক্স-রে করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ঘটনায় ওই ব্যক্তির সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি কিংবা সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।