
গুগল ম্যাপস ও গুগল আর্থের নতুন স্যাটেলাইট ইমেজ আপডেটের মাধ্যমে গাজা উপত্যকায় গত তিন বছরের সংঘাতের ভয়াবহ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তব চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। ধ্বংসযজ্ঞের এই প্রামাণ্য দলিলগুলো বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে যে, কীভাবে জনবহুল এই এলাকাটি এখন একটি বিরান ধ্বংসস্তূপে রূপ নিয়েছে।
জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টার (UNOSAT) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ অবকাঠামো বর্তমানে হয় ক্ষতিগ্রস্ত নয়তো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সংখ্যায় হিসাব করলে এটি প্রায় দুই লক্ষাধিক ভবনের সমান। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ ভবনই মাটির সাথে মিশে গেছে, যা পুরো অঞ্চলের আবাসন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ক্ষতির পরিসংখ্যান: জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ অবকাঠামো (প্রায় ২ লাখেরও বেশি ভবন) ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
ধ্বংসের শিকার হওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে রাফাহ শহরের তেল আল-সুলতান অন্যতম, যা এখন প্রায় ফাঁকা বালুচরে পরিণত হয়েছে; সেখানে হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি ভবন টিকে আছে। একই ভাগ্য বরণ করেছে গাজা সিটি, বেইত হানুন, জাবালিয়া শরণার্থী শিবির ও খান ইউনিসের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাগুলো। এসব এলাকার সারি সারি ভবন ও ব্লকগুলো বোমা হামলায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এছাড়া আল-শিফা হাসপাতালের মতো প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র এবং ঐতিহাসিক বন্দর এলাকাটির অবকাঠামোগত অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে।
শুধু বসতবাড়ি নয়, গাজার কৃষি ও অর্থনীতির মেরুদণ্ডও ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় কৃষিজমি, গ্রিনহাউস ও জলপাই বাগানগুলোর বিশাল অংশ বোমা হামলায় ধ্বংস হয়েছে। জাতিসংঘের মতে, এই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের ফলে গাজার উন্নয়ন ও অর্থনীতি কয়েক দশক পিছিয়ে গেছে। মানবিক সংকটের এই হৃদয়বিদারক বাস্তব চিত্র বিশ্বব্যাপী চলমান অস্থিরতার এক চরম নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।