
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং হজযাত্রীদের যাতায়াত সহজতর করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ ইবন ধাফের ইবন উবাইয়ার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আয়োজিত সৌজন্য সাক্ষাতে এ নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে মন্ত্রী চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি দাম্মাম ফ্লাইট চালুর একটি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের আলোকে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের সাথে ইতোমধ্যেই সাপ্তাহিক ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
হজযাত্রীদের ওপর আরোপিত কর ও বিভিন্ন চার্জের বিষয়েও বৈঠকে বিশেষ আলোচনা হয়েছে। গত ১৩ জুলাই এ নিয়ে যে আলোচনা হয়েছিল, তার রেশ ধরে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন মন্ত্রী। এছাড়া ২০২৭ সালের হজ ফ্লাইট ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা নিয়েও দুই পক্ষ কথা বলেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আগামী ২৮ মার্চ থেকে ৩০ অক্টোবর ২০২৭ পর্যন্ত ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে প্রতিদিন তিনটি করে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় স্লট বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছে। হজ ফ্লাইটের সূচি যথাসময়ে চূড়ান্ত করতে স্লট অনুমোদনের বিষয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সহায়তা চেয়েছেন মন্ত্রী। গত ১৩ জুলাই এ বিষয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তিতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
এভিয়েশন খাতের নতুন এয়ার সার্ভিস এগ্রিমেন্ট বা এএসএ খসড়া তৈরির কাজের অগ্রগতির বিষয়টিও পর্যালোচনায় উঠে আসে। সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (সিএএবি) বর্তমানে খসড়া চূড়ান্তকরণের কাজ করছে। অন্যদিকে, সৌদি এয়ারলাইনসের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ফ্লাইঅ্যাডিলের অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার অনুরোধের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্লট ও সক্ষমতা সীমিত থাকায় আপাতত বাড়তি ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। দুই দেশের এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্টের খসড়া তৈরির কাজও পর্যালোচনা করা হয়। খসড়া চূড়ান্ত হলে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।
হজ মৌসুমকে সামনে রেখে সিএএবির প্রস্তুতির সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য সৌদি জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী মোহাম্মদ রাজাবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফরের আগ্রহ নিয়েও বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। পর্যটন ও আকাশ যোগাযোগ খাতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।