• শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৪ অপরাহ্ন

সৌদি ও কাতারে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

রিপোর্টার: / ৬ পঠিত
আপডেট: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে সৌদি আরব ও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত কয়েক সপ্তাহে এসব ব্যাটারি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুই মার্কিন ও একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করা হলে মিত্র দেশ দুটির তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো যেন অক্ষত থাকে, সেই নিশ্চয়তা দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প নিজেও ইরানে ফের হামলার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তিনি মন্তব্য করেন যে, ইরান চুক্তিতে সই করবে নাকি দেশটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে—সেই কঠিন সিদ্ধান্ত তাকে নিতে হবে।

এর আগে আগস্ট মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছিল। সে সময় সৌদি ও কাতারি নেতারা তেল ও গ্যাস স্থাপনায় ইরানি পাল্টা হামলার আশঙ্কায় মার্কিন কর্তৃপক্ষকে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। সেই উদ্বেগের কথা মাথায় রেখেই ওয়াশিংটন সরাসরি সামরিক হামলার পরিবর্তে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর নীতি গ্রহণ করে। বর্তমানে রিয়াদ ও দোহার জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পেতে যুক্তরাষ্ট্রের বেগ পেতে হতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন। গত মাসে সৌদিতে একটি এবং কাতারে একটি প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি পাঠানো হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র অন্য আঞ্চলিক কমান্ড থেকেও প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি ও ইন্টারসেপ্টর সরিয়ে আনছে, যা সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স। প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমবর্ধমান চাহিদার পাশাপাশি অঞ্চলটিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও সেনাসদস্য মোতায়েন বাড়ানো হচ্ছে। রোববার সান দিয়েগো থেকে নীরবে যাত্রা শুরু করেছে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট নেতৃত্বাধীন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, যা নভেম্বরের মাঝামাঝি পৌঁছাতে পারে। এটি সেখানে আগে থেকেই থাকা ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং জাপান থেকে আসা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগ দিলে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ একসঙ্গে সক্রিয় থাকবে। একইসঙ্গে সোমবার মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপও রওনা হয়েছে। তিনটি উভচর জাহাজ এবং ১৩তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের কয়েক হাজার মেরিন সদস্য নিয়ে গঠিত এই বহরটি নভেম্বরের শেষ নাগাদ ওই অঞ্চলে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ