• সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত: মনসুরের ভাইরাল হওয়ার নেপথ্য কাহিনি নতুন ঋণের জন্য বাংলাদেশের সামনে আইএমএফের চার কঠিন শর্ত সবার জন্য টেকসই আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী পল্টন-প্রেস ক্লাবে অটোরিকশা চালকদের অবরোধ, রাজধানীতে তীব্র যানজট সিরিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা ও অবকাঠামো নির্মাণের তীব্র নিন্দা বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে গাছের চারা রোপণ করলেন প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আলোচনার আহ্বান ইরানের চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনে বিশ্বশক্তির জোর প্রতিযোগিতা ১৭২ যাত্রীর প্রাণরক্ষা: হাসপাতালে আহত পাইলটকে দেখতে গেলেন ক্রাউন

নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার: / ৫ পঠিত
আপডেট: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবাসন খাত নিয়ে সরকারের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, টেকসই আবাসনের ধারণা কোনো গণ্ডিবদ্ধ ভবন বা চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রধানমন্ত্রীর মতে, একটি মানসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের জন্য কেবল ছাদ থাকলেই চলে না, বরং তার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, নিরাপদ পানি, উন্নত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, সুশৃঙ্খল গণপরিবহন, মানসম্মত সড়কব্যবস্থা এবং গুণগত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয় থাকা অপরিহার্য। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করাকেও তিনি নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

দেশের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মতো জনবহুল একটি রাষ্ট্রে সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের তুলনায় অনেক বেশি জটিল ও চ্যালেঞ্জিং। ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ এবং শহরমুখী জনসংখ্যার বাড়তি চাপের কারণে এই সংকট আরও প্রকট হচ্ছে। এ অবস্থায় সর্বজনীন আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত এবং মৌলিক নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন আবাসন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এটি কেবল নাগরিক সুবিধা নয়, বরং মানুষের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই নাগরিকদের জন্য শুধু বাসস্থান তৈরি নয়, সেই বাসস্থানকে নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তারপরও সরকার এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ১১ নম্বর গোল অনুযায়ী অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ ও সহনশীল নগর গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা এবং অন্যান্য বড় শহরগুলোর ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে তিনি বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, ঢাকার চারপাশ ঘিরে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে আঞ্চলিক উন্নয়নের ভারসাম্য বজায় থাকে। এর পাশাপাশি সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।

আবাসন পরিকল্পনায় পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস করা যাবে না। নতুন আবাসিক এলাকা বা নগরকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। এছাড়া দ্রুত নগরায়ণের সাথে পাল্লা দিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে মর্যাদার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, আবাসন খাতের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কেবল সরকারি উদ্যোগে সফল করা কঠিন। তবে সরকারের গৃহিত সুপরিকল্পিত রোডম্যাপগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে দেশের আবাসন সংকট লাঘব হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই দিনে অনুষ্ঠিত মেলায় রাজউক, স্থাপত্য অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ব্যাংকিং খাত এবং আবাসন ও নির্মাণ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ১৫৭টি স্টল স্থান পেয়েছে, যেখানে আবাসন খাতের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। তবে পরিকল্পনার কথা বলা যতটা সহজ, বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন বলে স্বীকার করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ