• বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি: ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের মৃত্যু নয়াদিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বিনিয়োগ বাড়াতে ২০ উদ্যোগের সাতটি বাস্তবায়ন শাহজালাল বিমানবন্দরে সোনা চোরাচালান: ৪ মাসে ১৭০ কোটির উদ্ধার পথশিশু-ভিক্ষুকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার: ডা. জাহিদ বিদায়ী বক্তব্যে যা বললেন মেসি রাজশাহী মেডিকেলের ভিসিকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্র লেখানোয় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার কাতারে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিক্রি: সাকুরা সুপারমার্কেট ১০ দিন বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংককে না জানিয়েই ৩০ ব্যাংকের এটিএম সেবা বন্ধ শাহজালালে ৬৩১ কার্টন বিদেশি সিগারেটসহ আটক তিন যাত্রী

বিনিয়োগ বাড়াতে ২০ উদ্যোগের সাতটি বাস্তবায়ন

রিপোর্টার: / ৪ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার চলতি বছরের ১৬ মার্চ ২০টি বিশেষ উদ্যোগ ঘোষণা করে। এর মধ্যে সাতটি উদ্যোগ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি ১৩টি উদ্যোগ বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন, সেবা সহজীকরণ এবং নতুন সুযোগ তৈরির মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই এসব পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সেসময় বলেছিলেন, ‘বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের যে লক্ষ্য, এই পরিকল্পনা তারই অংশ। তবে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে।’। চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে।

বিনিয়োগের সমস্যা দূর করতে এবং সক্ষমতা বাড়াতে এই উদ্যোগগুলোকে তিনটি মূল স্তম্ভে ভাগ করা হয়েছে: শক্তিশালী অবকাঠামো, বিনিয়োগে সহায়তা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন। আমরা বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে অবকাঠামো, সেবার মান এবং সম্ভাবনাময় বিনিয়োগের পাইপলাইন তৈরিতে গুরুত্ব দিয়েছি।

বাস্তবায়িত প্রধান উদ্যোগসমূহ

  • লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল: ৫৫০ মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এপিএম টার্মিনালস ২০৩০ সালের মধ্যে এর নির্মাণ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং সাত শতাধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
  • চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল: চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এর কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই শিল্পাঞ্চলে এক লাখেরও বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হবে।
  • বন্দরের ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম: চট্টগ্রাম বন্দরে সার্বক্ষণিক কাস্টমস ও ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা পণ্য খালাসের জটিলতা ও বিলম্ব কমাবে।
  • সমন্বিত বিনিয়োগ সেবা: বিডা, বেজা এবং পিপিপিএ-এর কার্যক্রম একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ গঠন করা হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা এক জায়গা থেকেই জমি ও নীতিগত সহায়তা পান।
  • দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সিইপিএ চুক্তি: বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার আওতায় ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা পাবে।
  • এফডিআই প্রণোদনা কর্মসূচি: বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য ব্যক্তিকে দেশে আনা বিদেশি বিনিয়োগের ইক্যুইটির ১.২৫ শতাংশ সমপরিমাণ প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী-ব্যবসায়ী সংলাপের অগ্রগতি

  • বিনিয়োগকারীদের সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ শুরু হয়েছে। প্রথম দুই দফার সংলাপে ব্যবসায়ীরা ২৮টি সমস্যা তুলে ধরেছিলেন, যার মধ্যে ২১টির সমাধান হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৭৫ শতাংশ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি করেছে, যার মধ্যে ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। দেশভিত্তিক সম্ভাব্য বিনিয়োগের মধ্যে চীন থেকে ৬০ কোটি ডলার, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৩০ কোটি ডলার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০ কোটি ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১০ কোটি ডলার আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ ইতিমধ্যে সক্রিয় রয়েছে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ৩০ কোটি ডলার করে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও বস্ত্র খাতে ২০ কোটি ডলার করে বিনিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া অটোমোটিভ যন্ত্রাংশ, হালকা প্রকৌশল এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো খাতগুলোকে বিনিয়োগের জন্য দ্রুত উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে ১৪ দিনের একটি ‘বিজনেস রেডিনেস প্যাকেজ’ও তৈরির কাজ চলছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা থাকবে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি জানিয়েছেন, পাঁচটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ১০ হাজার একরের বেশি জমিতে ৪৪টি বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে পোর্টফোলিও তৈরির কাজ চলছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পিপিপি ভিত্তিতে পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া আনবে। এছাড়াও ২০২৬ সালের মধ্যে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ২ লাখ টন থেকে বেড়ে ৫ লাখ টনে পৌঁছাবে। এটি চালু হলে ৭০০’র বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ