• বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন

দেশের চার অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কমছে যাত্রী সংখ্যা

রিপোর্টার: / ৮ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে গত দুই বছরে ধারাবাহিকভাবে যাত্রী সংখ্যা কমেছে। বরিশাল, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যাত্রী হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে সড়ক যোগাযোগের অভূতপূর্ব উন্নতি এবং আকাশপথের তুলনায় যাতায়াতে কম খরচকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এর বিপরীতে দেশের অন্য কয়েকটি বিমানবন্দরে যাত্রী চলাচল কিছুটা বেড়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, যশোর বিমানবন্দরে সবচেয়ে বেশি যাত্রী কমেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই রুট দিয়ে ২ লাখ ২১ হাজার যাত্রী যাতায়াত করলেও দুই বছরের ব্যবধানে তা নেমে আসে ৯২ হাজার ২০০ জনে। এমনকি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে যাত্রী সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৪ হাজার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।

বরিশাল বিমানবন্দর ও রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের চিত্রও প্রায় একই রকম। ২০২৩ অর্থবছরে বরিশালে প্রায় ৫৮ হাজার যাত্রী চলাচল করলেও পরবর্তী দুই বছরে তা অর্ধেকের নিচে নামে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে মাত্র ৮ হাজার ৭০০ যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৫ শতাংশ কম। অন্যদিকে, দুই বছর আগেও রাজশাহীতে বছরে দেড় লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করতেন। অথচ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত সেখানে যাত্রী সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২০০ জনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম। এছাড়া উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ সৈয়দপুর বিমানবন্দরেও একই প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। গত অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সেখানে ৩ লাখের বেশি যাত্রী চলাচল করলেও তা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ কম ছিল।

এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মেসবাহ-উল ইসলাম জানান, অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী কমার নেপথ্যে রয়েছে বাড়তি ফ্লাইট ভাড়া এবং সড়ক যোগাযোগের আধুনিকায়ন। পদ্মা সেতু চালুর ফলে ঢাকা থেকে যশোর ও বরিশালের সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ায় অনেক যাত্রী এখন আকাশপথ এড়িয়ে চলছেন। তিনি উল্লেখ করেন, একসময়ের প্রায় শতভাগ আসন পূর্ণ থাকা যশোর রুটে এখন তা মাত্র ১০ শতাংশে নেমেছে এবং বরিশাল রুট প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এদিকে বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত দেশের সব বিমানবন্দর মিলিয়ে ১ কোটি ৫৮ লাখের বেশি যাত্রী চলাচল করেছেন, যার একটি বড় অংশই ব্যবহার করেছেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। তিনি জানান, যশোর রুটে একসময় আসন পূরণের হার প্রায় ১০০ শতাংশ থাকলেও এখন তা প্রায় ১০ শতাংশে নেমেছে।

তবে সব অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী কমে যাওয়ার চিত্র দেখা যায়নি। পর্যটন শহর কক্সবাজারে চাহিদা বাড়ায় বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনস সেখানে ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস সৈয়দপুরে ফ্লাইট ও আসন কমালেও রাজশাহী রুটে পুনরায় সপ্তাহে ছয়টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সড়ক যোগাযোগের বর্তমান প্রসার এবং ভাড়ার প্রতিযোগিতামূলক বাজার বিবেচনা করে অভ্যন্তরীণ এভিয়েশন খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নতুনভাবে পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ