• বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ছয় মাসের কর্মমূল্যায়নে মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের আভাস, পরিবর্তনের তালিকায় একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নারীকেন্দ্রিক অভিযোজন কৌশল, সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে বড় বিনিয়োগ ফ্রি কোটা অর ডাই’ লিখে রাজপথে প্রতিবাদের প্রতীক: জুলাই আন্দোলনের সাহসী মুখ আব্দুল্লাহ আল মামুন শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে’—এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিভেদের রাজনীতি চললে স্বৈরাচারের ফেরার সুযোগ তৈরি হবে’—রুহুল কবির রিজভী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মিঠা পানির মাছে উত্তরবঙ্গের সাফল্য, রাজশাহী এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ সরবরাহ কেন্দ্র বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এমআইএসটি দলকে প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা, তরুণ উদ্ভাবকদের পাশে থাকার ঘোষণা সৌদি প্রতিরক্ষা জোটে যোগ মানেই ইরানবিরোধী অবস্থান নয়: প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তিন মাস পর আবার এলপিজির দাম বৃদ্ধি, ১২ কেজি সিলিন্ডার ৭০ টাকা বেড়ে ১,৫৯৮ টাকা

“আজ বসন্তে ‘ভালোবাসি’ বলার দিন মাঘের শেষে ফাল্গুনের প্রথম দিন/দৈনিক ক্রাইম বাংলা।। 

হাবিবুর রহমান।। / ৩৮২ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

লক্ষীপুর প্রতিনিধি।।

বাতাসে যেন মিষ্টি আনন্দের আমেজ। আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিনেই ভালোবাসা দিবস বা বিশ্ব ভ্যালেন্টাইনস ডে। বাঙালি মনের ভালোবাসাও আজ পবিত্র, ফুলে রাঙা আর বাসন্তী মোহে মুগ্ধ। ভালোবাসা দিবসে যুগলদের মনের উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ। শুধু তরুণ-তরুণী নয়, নানা বয়সের মানুষই ভালোবাসার এই দিনে একসঙ্গে সময় কাটাবেন। দিনটি পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হলেও ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবসে বাঙালি মনের ভালোবাসাও যেন পায় নতুন রূপ। আজকের এ ভালোবাসা শুধুই প্রেমিক আর প্রেমিকার জন্য নয়। মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, প্রিয় সন্তান, এমনকি বন্ধুর জন্যও ভালোবাসার জয়গানে আপ্লুত হতে পারে সবাই।
ভালোবাসা দিবস পালনে লক্ষীপুর শহরের ফুলের দোকানগুলো এখন জমজমাট। প্রিয়জনকে ফুল দিয়ে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাতে ফুলের দোকানগুলোতে তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়. দোকানগুলোতে ঘুরে এ দৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। ফুলের দোকানীরা জানান, ক্রেতা কম, ভালোবাসা দিবসের সারাদিন ভালো বিক্রি হবে। তবে ফুলের ক্রেতারা বলছেন, এ বছর ফুলের দাম গত দুই বছরে থেকে অনেক বেশি। দাম যতই বেশি হোক ফুল কেনা কি থেমে থাকে? এ দিন প্রিয়জনকে ফুল দিতে না পারলে তো দিনটিই বৃথা। কথা হয় ফুল কিনতে আসা সাহাত ও সাফাত নামের দুই ভাইয়ের সঙ্গে কথা। তারা জানান, ভালোবাসা দিবসে পরিবারের প্রিয়জনদের ফুল দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশের জন্য তারা ফুল কিনতে এসেছেন। ভালোবাসা শুধু তরুণ-তরুণীদের মাঝে নয়, সব বয়সের সব সম্পর্কের মানুষের জন্যই ভালোবাসা দিবস। সাহাত ও সাফাত তাদের মাকে ফুল দিয়ে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাবেন বলে জানান।ঋতুরাজ বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসকে রাঙাতে কতই না আয়োজন। যার মূল অনুষঙ্গ রঙ-বেরঙের ফুল। সব আবেদন, অনুরাগ, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের বড় মাধ্যম ফুল। তেমনই পোস্ট অফিসের সামনের একটি ফুলঘরে দাঁড়িয়ে গোলাপ পছন্দ করছিলেন লাবনী আক্তার নামের এক যুবতী। কী ফুল কিনবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফুলের দাম বেশি। ভালোবাসা দিবসে বাবা ও মায়ের জন্য কয়েকটি গোলাপ কিনতে এসেছি। কিন্তু ৫০ টাকার কমে কোনো দোকানেই ভালো গোলাপ নেই। আগের পুরোনো ও প্রায় শুকনা গোলাপগুলোই কেবল ২৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বেশি হলেও বাবা- মায়ের জন্য ভালো গোলাপই কিনব। নিজের জন্য ফুলের একটি খোপা কিনেছি দাম নিয়েছে ১৫০ টাকা। কিছুদিন আগেও আগেও এমনই একটি খোপা কিনেছিলাম মাত্র ৫০ টাকায়।’
ফুল বিক্রেতা রাসেল শেখ জানান, ‘ভালোবাসার দিবস উপলক্ষে দুই-তিন দিন আগ থেকেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তাঁদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ ফুল মজুদ আছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি কিছুটা কম। তিনি আশা করেন, ভালোবাসা দিবসের সারাদিন (১৪ ফেব্রুয়ারি) দোকানে ভিড় থাকবে।’ এদিন, বিভিন্ন আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে ঘোরাঘুরি করে কাটাবে ভালোবাসার মানুষগুলো। তাদের পরনে লাল-নীল, সাদা, বেগুনি, গোলাপি বিভিন্ন রঙের পোশাক আর সাজসজ্জায় ভালোবাসার দিনটি যেন বর্ণিল রঙে রঙিন হয়ে উঠবে।’
জাহিদ ফুলঘরের মালিক মিজান বলেন, ‘এবার বাগান ও ফুলের হাট সবখানেই ফুলের দাম বেশি। প্রতি পিস গোলাপ মানভেদে বাগান থেকে পাইকারি ২০ থেকে ২৫ টাকা করে পড়ছে। এই ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে আমার দোকানে সব মিলিয়ে এক লাখ টাকার অতিরিক্ত ফুল তুলেছি। আজ বিক্রি কম, তবে কাল (আজ বুধবার) সারাদিন ভালো বিক্রি হবে।’

অনেকের মতে, ফেব্রুয়ারির এ সময়ে পাখিরা তাদের জুটি খুঁজে বাসা বাঁধে। নিরাভরণ বৃক্ষে কচি কিশলয় জেগে ওঠে। তীব্র সৌরভ ছড়িয়ে ফুল সৌন্দর্যবিভায় পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়। এ দিনে চকোলেট, পারফিউম, গ্রেটিংস কার্ড, ই-মেইল, মুঠোফোনের এসএমএস-এমএমএসে প্রেমবার্তা, হীরার আংটি, প্রিয় পোশাক, অথবা বই ইত্যাদি শৌখিন উপ-ঢৌকন প্রিয়জনকে উপহার দেওয়া হয়। নীল খামে হালকা লিপস্টিকের দাগ, একটা গোলাপ ফুল, চকোলেট, ক্যান্ডি, ছোট্ট চিরকুট আর তাতে দুছত্র গদ্য অথবা পদ্য হয়ে উঠতে পারে উপহারের অনুষঙ্গ।

ইতিহাসবিদদের মতে, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। জানা যায়, এক খ্রিস্টান পাদ্রি ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টানবিরোধী রোমান সস্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেইন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেনটাইন তাঁর আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইউর ভ্যালেনটাইন’। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেনটাইনস ডে হিসেবে পালন করা শুরু করেন। ভ্যালেনটাইনস ডে সর্বজনীন হয়ে ওঠে আরও পরে, প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ