
মূল হোতা নাজমুল পলাতক, গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা**
বাংলাদেশে অবৈধ ফরেক্স ট্রেডিংয়ের ভয়াবহ চিত্র উন্মোচিত হয়েছে পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে। রাজধানীতে পরিচালিত এ অভিযানে অবৈধ ফরেক্স লেনদেন চক্রের এক গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে জব্দ করা হয়েছে প্রায় ২৬ লাখ মার্কিন ডলার, যার বাংলাদেশি মূল্য শত কোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলেন আলোচিত ফরেক্স ট্রেডার নাজমুল। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মিজানকে আটক করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, আটক মিজান ছিলেন নাজমুলের প্রধান সহযোগী ও আস্থাভাজন ব্যক্তি। অবৈধ ফরেক্স ট্রেডিং কার্যক্রম পরিচালনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে দেশে অবৈধভাবে ফরেক্স ট্রেডিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। বিদেশি সার্ভার ব্যবহার করে এবং হুন্ডি চ্যানেলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ডলার লেনদেন করা হতো। এতে একদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রতারণার শিকার হচ্ছিলেন, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতিও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছিল।
অভিযানের পর থেকে পলাতক নাজমুলকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার অবস্থান শনাক্তে প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন,
“এটি শুধু একজন বা দুইজনের অপরাধ নয়। এর পেছনে একটি বড় ও সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করছে। তদন্ত শেষ হলে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ ফরেক্স ট্রেডিং দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুতর হুমকি এবং এতে সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে প্রতারিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক এই অভিযান সেই বাস্তবতারই আরেকটি উদ্বেগজনক উদাহরণ।