
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে জবাবদিহিতার সীমা নির্ধারণে আহ্বান তথ্যমন্ত্রী স্বপনের
চট্টগ্রাম, ৪ মার্চ ২০২৬ (বাসস): গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে জবাবদিহিতার সীমানা নির্ধারণে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য জবাবদিহিতার সীমানা কতটুকু ও কীভাবে নির্ধারণ করতে হবে—সে বিষয়ে সরকারকে সুস্পষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে গণমাধ্যমকেই।
তিনি বলেন, “আপনাদের নির্ধারিত সেই সীমানার মধ্যে কোনো গোয়েন্দা সংস্থা, রাষ্ট্রীয় বা রাষ্ট্রবহির্ভূত কোনো পক্ষ যাতে গণমাধ্যমকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে—সেই দায়িত্ব তথ্য মন্ত্রণালয় নিতে প্রস্তুত।”
চট্টগ্রাম ক্লাবের সুইমিংপুল সাইডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় গণমাধ্যম কোনো আনুষ্ঠানিক স্তম্ভ না হলেও বিচার, নির্বাহী ও আইন বিভাগের পাশাপাশি এটি কার্যত রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে বিবেচিত। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে এবং দলীয় নেতা তারেক রহমানও এ বিষয়ে বারবার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
স্বপন বলেন, “কোনো স্বাধীনতা যদি দায়িত্বের কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ না থাকে, তবে তার সুফল ভোগ করা যায় না। আবার সরকার একতরফাভাবে জবাবদিহিতার সীমানা নির্ধারণ করলে অতীতের সরকারের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য থাকবে না।”
তিনি গণমাধ্যম ও সরকারের যৌথ উদ্যোগে একটি পথনকশা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন গণমাধ্যম গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টনে সুস্পষ্ট নীতিমালার অভাবের কথাও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে বিজ্ঞাপন ও অনুদান বণ্টনে স্বচ্ছ নীতিমালা নেই। অনেক পত্রিকা ‘ব্যাঙের ছাতার মতো’ গড়ে উঠছে। তবে অনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম ঠেকাতে গিয়ে যেন কণ্ঠরোধের প্রশ্ন না ওঠে, সেদিকেও সতর্ক থাকার কথা জানান তিনি।
ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন কাঠামোর আওতায় আনতে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নকারী ও বাস্তবায়ন না করা পত্রিকার ক্ষেত্রে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
প্রধান বক্তা মীর হেলাল বলেন, সংবাদমাধ্যম সমাজের দর্পণ। বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ ও যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আরিফের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিভিন্ন সাংবাদিক নেতা ও সংসদ সদস্যরা।