
ক্ষমতায় এসেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু: ধর্মীয় নেতাদের ভাতা কর্মসূচি উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ভোটের কালি শুকানোর আগেই জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শনিবার রাজধানীতে ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দেশকে দাঁড় করাতে চায় সরকার, যাতে ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী শক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে।
তিনি বলেন, সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাদের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্মান করে এবং জীবনের কঠিন সময়ে যাদের কাছে পরামর্শ আশা করে। আজকের অনুষ্ঠানে এমনই অনেক ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব উপস্থিত হয়েছেন। এখানে ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনের পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মের পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার অধ্যক্ষ ও যাজকরাও অংশ নিয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন, সমাজের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বৈষম্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার। জনগণের রায়ে সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা নারী সমাজের জন্য ইতোমধ্যে “ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানকে এ কার্ড দেওয়া হবে। পাশাপাশি আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে কৃষকদের জন্য “কৃষক কার্ড” চালু করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে দেশের খাল পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু হবে। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও যাজকদের জন্য মাসিক সম্মানি প্রদানের কর্মসূচিও আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে।
তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানিয়ে বলেন, সারাদেশে যেসব ধর্মীয় সেবকের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের পর্যায়ক্রমে এই আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা হবে।
সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে দেশের হাজার হাজার ধর্মীয় সেবককে মাসিক ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।