
মোঃআল আমিন
রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতাল-এ একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার (২৮ মে) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
তিনি জানান, তদন্তকারী দল শিশুদের কক্ষ পরিদর্শন করে সেখানে কর্তব্যরত নার্সদের উপস্থিতি পেলেও গুরুতর অসুস্থ শিশুকে দ্রুত পাঁচতলার এনআইসিইউতে (NICU) স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় কাঠামোগত দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এই সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছে। চিকিৎসা সেবায় আরও কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, রাত ২টার দিকে এক শিশুর অভিভাবক ঠান্ডা লাগার অভিযোগ করলে কক্ষের এসি এক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়। পরে ভোর ৪টার দিকে একটি শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে এনআইসিইউতে নেওয়া হয় এবং অবস্থার উন্নতি হলে আবার সাধারণ ওয়ার্ডে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর সকাল পৌনে ৭টার দিকে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ধরা পড়ে। পরবর্তীতে অন্য শিশুরাও অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবাই মারা যায়।
পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক জাহেদ রায়হান বলেন, “মাত্র এক-দুই ঘণ্টার ব্যবধানে ছয়টি শিশুর মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক চিকিৎসাজনিত ঘটনা হতে পারে না। এখানে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটির আশঙ্কা রয়েছে।”
তিনি জানান, বিষয়টি তদন্তে সিআইডি-এর বিশেষজ্ঞ দল ইতোমধ্যে কক্ষটি সিলগালা করেছে এবং এসিসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
ময়নাতদন্ত প্রসঙ্গে অধ্যাপক জাহেদ রায়হান বলেন, অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে ময়নাতদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও শোকার্ত অভিভাবকেরা শিশুদের দেহ কাটাছেঁড়া করতে দিতে রাজি হননি। তাই পারিপার্শ্বিক আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।