• শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে বিএফইউজে-ডিইউজের শোক, শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রথম জানাজা কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক: ‘সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হলো’ ছয় মাসে পাঁচ অঞ্চলে চালু হচ্ছে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জোর প্রস্তুতি রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান বাংলাদেশের একনেকেই পাস হচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, তিস্তাপারের মানুষের আর কোনো চিন্তা নেই: পানি সম্পদ মন্ত্রী এ্যানি শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগই জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেষ মুহূর্তে ভেস্তে গেল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি বৈঠক, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন শঙ্কা জনগণের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা, সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মূলধারার রাজনীতি ও ব্যবসায় আরও সক্রিয় হোন’—যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি ড. তিতুমীরের আহ্বান

জুনে কম বৃষ্টি, বেশি গরমের আভাস; ১০ জুনের পর সক্রিয় হতে পারে মৌসুমি বায়ু

রিপোর্টার: / ৩০ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

 

জুনে কম বৃষ্টি, বেশি গরমের আভাস; ১০ জুনের পর সক্রিয় হতে পারে মৌসুমি বায়ু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চলতি জুন মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাত এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস প্রদানকারী বিশেষজ্ঞ কমিটি। একই সঙ্গে মাসজুড়ে কয়েক দফা তাপপ্রবাহ ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।

গত সোমবার ঢাকার ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত কমিটির নিয়মিত সভার পর আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম জানান, জুনের প্রথমার্ধেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সারা দেশে বিস্তার লাভ করতে পারে। তবে বর্ষা শুরু হলেও মাসব্যাপী বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকতে পারে।

তিনি বলেন, জুন মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মৃদু তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি তাপপ্রবাহে ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুন মাসে পাঁচ থেকে সাত দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড় হতে পারে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ৬০০ থেকে ৬৩০ মিলিমিটার, বরিশাল বিভাগে ৪২০ থেকে ৪৭০ মিলিমিটার, রংপুর বিভাগে ৪০০ থেকে ৪২০ মিলিমিটার, ঢাকা বিভাগে ৩৩০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার, খুলনা বিভাগে ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার এবং রাজশাহী বিভাগে ২৭০ থেকে ২৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, দেশের কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত শুরু হলেও তা এখনই তাপপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর মতো নয়। বগুড়া, রাজশাহী, নেত্রকোনা ও রংপুরের কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত হওয়ায় স্থানীয়ভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে তাপপ্রবাহ পুরোপুরি প্রশমিত হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।

তিনি বলেন, ঢাকায় এখনো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি এবং ভ্যাপসা গরম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু মিয়ানমার উপকূলের কাছে অবস্থান করছে এবং বাংলাদেশে পৌঁছাতে আরও তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে।

আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানান, মৌসুমি বায়ু প্রবেশের পর প্রথমে দক্ষিণাঞ্চল, পরে মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। ঢাকায় আগামীকাল বিকেলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও ভ্যাপসা গরম পুরোপুরি কমবে না।

এদিকে আবহাওয়া বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান জানিয়েছেন, আগামী ১০ জুনের দিকে মৌসুমি বায়ু দেশে সক্রিয়ভাবে প্রবেশ করতে পারে। এরপর ১১ থেকে ১২ জুন থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ১০ জুনের পর মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হয়ে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের বিস্তার ঘটাতে পারে। টানা তিন থেকে চার দিন বৃষ্টিপাতের পর বিরতিও দেখা যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি জুন মাসের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এ বছর জুন মাসে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।

মশিউর রহমান আরও বলেন, বর্তমানে চলমান তাপপ্রবাহের প্রভাব কম-বেশি ১০ জুন পর্যন্ত থাকতে পারে। তবে ৫ জুনের পর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত বাড়তে শুরু করলে গরমের তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। যদিও বৃষ্টির পর আবার ভ্যাপসা গরম অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নদ-নদীর পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান নদীগুলোর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকতে পারে। তবে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু নদ-নদীর পানি সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

এদিকে জুনের প্রথমার্ধে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও মাসের শেষার্ধে উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেলে নিচু ও জলাবদ্ধ এলাকায় স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে আপাতত বড় ধরনের বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে দেশে গড়ে ২৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায় এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় সিলেটে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ