
রাজধানী ঢাকাকে শতভাগ লোডশেডিংমুক্ত রাখার দীর্ঘদিনের ধারণা থেকে সরে আসছে সরকার। এখন থেকে ঢাকার বাসিন্দাদেরও কিছুটা লোডশেডিং মেনে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
বিদ্যুৎ সংকটের মূল কারণ হিসেবে গ্যাসের ঘাটতিকে দায়ী করে উপদেষ্টা বলেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তিনি আরও জানান, আগের সরকারগুলোর আমলে ঢাকার মানুষের সামাজিক প্রভাব ও জোরালো কণ্ঠস্বরের কারণে রাজধানী প্রায় লোডশেডিংমুক্ত থাকত। এই বিশেষ সুবিধার কারণে ঢাকার মানুষের মধ্যে লোডশেডিং না হওয়ার একটি বদ্ধমূল ধারণা তৈরি হয়েছিল, যা থেকে এখন বেরিয়ে আসতে হচ্ছে।
লোডশেডিংয়ের তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, ২০২৩ সালের জুনে দৈনিক গড় লোডশেডিং ছিল ৯৬৯ মেগাওয়াট, যা ২০২৬ সালের জুনে কমে ৭৪১ মেগাওয়াটে নেমে আসে। একইভাবে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ৬১৩ মেগাওয়াটের তুলনায় ২০২৬ সালের জুলাইয়ে গড় লোডশেডিং ছিল ৪৬০ মেগাওয়াট। তবে আগস্ট মাসে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে; ২০২৩ সালের আগস্টে যেখানে দৈনিক গড় লোডশেডিং ছিল ৩৬০ মেগাওয়াট, সেখানে ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে ১ হাজার ৫৬৫ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।
আগস্ট মাসে বিদ্যুৎ সংকট তীব্র আকার ধারণ করলেও জুন ও জুলাইয়ের সামগ্রিক হিসাবে ২০২৬ সালে লোডশেডিং আগের বছরের তুলনায় কম ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। উপদেষ্টা আরও জানান, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা জানিয়েছেন যে গ্যাসের সংকট কেটে গেলে বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট আর প্রকট থাকবে না। যদিও ঢাকা দেশের সবচেয়ে বড় শহর এবং এখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি হওয়ায় বিদ্যুতের ক্ষেত্রে রাজধানী কিছুটা অগ্রাধিকার পেতে পারে, তবুও একে পুরোপুরি লোডশেডিংমুক্ত রাখার নীতি থেকে সরকার সরে এসেছে।