
দল-মত-পথ নির্বিশেষে দেশের কৃষকদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কৃষকদের যথাযথ সম্মান প্রদান ও তাদের উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে নতুন উদ্ভাবন এবং কৃষিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা ব্যক্ত করেছেন তিনি। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এতে কৃষক যেন সঠিক দাম পান, সে বিষয়েও উদ্যোগী, সচেতন ও সজাগ হতে কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন মো. আব্দুল জলিল, মো. হাসান আলী, মোছা. বেলী বেগম, মো. আবু তালেব জোয়াদ্দার, মো. হাফিজুর রহমান মুকুল, তোফাজ্জল হোসাইন (পল্টি) ও শওকত আলম। এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিবেরাও উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি প্রতিনিধিদলকে বলেন, কৃষকেরা দেশের আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ, তারা প্রকৃত অর্থে দেশ গড়ার যোদ্ধা। কৃষকদের সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি এ বিষয়ে কৃষি ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগের পরামর্শ দেন এবং কৃষকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে একটি শক্তিশালী আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষিকে দেশের সবচেয়ে ইতিবাচক খাত। কৃষকের কঠোর পরিশ্রম, উচ্চফলনশীল নতুন জাত ও কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে দেশে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৃষকেরা দুর্নীতি করেন না; বরং তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে নিরলস অবদান রেখে চলেছেন। সাক্ষাৎকালে কৃষক সমিতির প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শস্য সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি জানান, কৃষিপণ্যের উন্নয়ন ও কৃষকদের কল্যাণে সরকার একটি নতুন স্কিম চালু করেছে, যার আওতায় ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফসহ সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তির সুযোগের কথা তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া তিনি জানান, দেশে উৎপাদিত ফলমূল ও প্রক্রিয়াজাত পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পণ্য রপ্তানিতে সমিতির সদস্যদের এগিয়ে আসতে বলেন তিনি। এছাড়া কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পকারখানা, আধুনিক হিমাগার স্থাপন এবং খামারে সৌরপ্যানেল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এনজিও ঋণ নিয়ে কৃষকদের উদ্বেগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। ঈশ্বরদীতে কৃষকদের সংবর্ধনা ও আধুনিক মেলার আয়োজনে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতির আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি তাতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সমিতির সভাপতি রাষ্ট্রপতিকে জানান, ঈশ্বরদীতে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৭০ বছরের বেশি বয়সী কৃষকদের সংবর্ধনা এবং আধুনিক কৃষিপণ্যের প্রদর্শনী ও বাণিজ্যিকীকরণে মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিতে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানালে তিনি মেলায় উপস্থিত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন।