• শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় গিয়ে ২৬ বছর বয়সী যুবকের শরীরে মিলল জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউব সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ: বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকারের ঝুঁকি দেখছে সংস্থাটি এক ভিসায় ঘুরে দেখা যাবে ছয় দেশ: আসছে জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে সরকার সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দুবাই বিমানবন্দর: আশাবাদী প্রধান নির্বাহী পল গ্রিফিথস সিএমএইচে চিকিৎসাধীন আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর লালবাগে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর সন্ধানে ভবনের মেঝে খুঁড়ে উদ্ধার অভিযান রাশিয়ায় ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারালেন ময়মনসিংহের আল মামুন গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও গ্রেপ্তার সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া

বিবাহবিচ্ছেদের কারণঃ-

রিপোর্টার: / ৪৭৭ পঠিত
আপডেট: শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নুরুল আমিন।। বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদ। ভাঙছে সংসার। মা-বাবা বেঁচে থাকার পরেও আদর-স্নেহ বঞ্চিত হচ্ছে সন্তান। সমাজে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা নতুন কিছু নয়। যুগযুগ ধরে এ ধারাবাহিকতা চলে আসছে। তবে আগের তুলনায় করোনাকালে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা খুব বেশি দেখা যায়। এক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে নারীরাই এখন বেশি তালাক চাইছেন। সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘শিক্ষিত মেয়ের চাকরি জীবন, তার ব্যক্তি স্বাধীনতা, তাকে কিছু বিষয়ে সহযোগিতা করা- এসবে পূর্ণ স্বাধীনতা বা সহযোগিতা করতে নারাজ স্বামীরা। ফলে একটি শিক্ষিত মেয়ের যখন আত্মসম্মানে আঘাত আসে, তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন ডিভোর্সের।’ এক জরিপে দেখা গেছে, ‘প্রতি ঘণ্টায় ভাঙছে একটি সংসার। এক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ তালাক দিচ্ছেন নারীরা, ৩০ শতাংশ দিচ্ছেন পুরুষরা। তবে এটা কেবল শহরের হিসাব।’ তালাকের এ দৌড়ে অশিক্ষিতদের তুলনায় শিক্ষিত স্বামী-স্ত্রীরা খুব এগিয়ে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজনেরা বলেছেন, ‘শহরে ডিভোর্সের মধ্যে নারীরা এগিয়ে থাকলেও সেটা সারা দেশের চিত্র নয়। নিম্নবিত্তের বিয়ে বা ডিভোর্সের কোন তথ্য নথিভুক্ত সব সময় হয় না। তবে নিম্নবিত্তের মধ্যে স্বামীরাই ডিভোর্স দিচ্ছে বেশি। সেখানে মেয়েটি সংসার টিকিয়ে রাখতে অনেক কিছু সয়ে গেলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা টিকছে না এবং অনেক ক্ষেত্রে বিয়েটা ঝুলে থাকে।’ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর তথ্য অনুযায়ী, ‘২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে ১৭ শতাংশ বিবাহবিচ্ছেদ বেড়েছে। মহামারীকালে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশঙ্কা করছেন।’
সংসার জীবনে বনিবনা না হওয়া, মতের গরমিল, পারিবারিক সহিংসতা, অভাব-অনটন, ভুল বোঝাবুঝি, দুর্ব্যবহার, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, সন্দেহ প্রবণতা, মাদকাসক্তি, যৌতুক, স্বার্থের সংঘাত, আত্মসম্মানবোধ, বেপরোয়া চলাফেরা, পরকীয়া সম্পর্ক, বিদেশী সংস্কৃতির কুপ্রভাব, আধুনিকতার নামে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার, প্রভৃতি কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাক হয়ে যায়। আবার কখনও কখনও ছেলেমেয়ে নাহলে কিংবা শারীরিক দুর্বলতার কারণেও সংসার ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। করোনাকালে আয় সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়ার কারণে অধিকাংশ সংসারে কলহ-বিবাদের জের ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় বলে ধারণা করা হয়।
মহামারীর মতো তালাক প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার কারণে সমাজ ও পরিবারে নেমে আসে অশান্তি। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা সবাই। অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে ভাঙা সংসারের শিশুর ভবিষ্যত। তালাক যে কারণে হোক না কেন, ভাল মানুষ হওয়ার বদলে অনাদরে, অবহেলায় বেড়ে ওঠা শিশুটি খারাপ মানুষ হয়ে ওঠে। যার দায় এড়াতে পারে না সমাজ ও তার মা-বাবা।
লেখকঃ কবি, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক। লালমোহন, ভোলা।
মোবাইল ঃ 01759648626.


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ