কলাপাড়ায় গোলগাছের রসে তৈরি ভিন্নস্বাদের গুড়, বাড়তি আয়ের নতুন সম্ভাবনা
মো. নাহিদুল হক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।
উপকূলীয় উপজেলা কলাপাড়ায় গোলগাছের মিষ্টি রস থেকে তৈরি হচ্ছে ভিন্নধর্মী ও সুস্বাদু গুড়। শীতের মৌসুম এলেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৩০০ পরিবার গোলগাছের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বড় কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই এই গুড় উৎপাদন করে প্রতিটি পরিবার মৌসুমে বাড়তি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করছেন।
ভোরের আলো ফোটার আগেই কলস কিংবা বালতি হাতে গোলগাছের বাগানে ছুটে যান কৃষকরা। সংগৃহীত রস বাড়িতে এনে গৃহবধূরা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ছেঁকে ঢোঙ্গায় রেখে খরকুটো জ্বালিয়ে তীব্র তাপে ফুটিয়ে তৈরি করেন সুমিষ্ট ও ভিন্নস্বাদের গোলের গুড়। এই গুড়ের স্বাদ মুখে নিলেই আলাদা করে বোঝা যায়, যার কারণে দিন দিন বাড়ছে এর চাহিদা।
স্থানীয়রা জানান, গোলগাছ দেখতে অনেকটা নারিকেল পাতার মতো হলেও এটি পাম গোত্রের একটি ম্যানগ্রোভ প্রজাতির উদ্ভিদ। নোনা পানিতে জন্ম নেওয়া এ গাছের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নোনাধর্মী হলেও ডগা থেকে বের হওয়া রস হয় আশ্চর্যজনকভাবে মিষ্টি। সেই রস থেকেই তৈরি হয় জনপ্রিয় গোলের গুড়।
কৃষকদের তথ্যমতে, কলাপাড়া উপজেলায় প্রায় ৬৫ হেক্টর জমিতে গোলগাছের বাগান রয়েছে। শীতের মৌসুমে নীলগঞ্জ, মিঠাগঞ্জ ও চাকামইয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করে স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করছেন। চলতি মৌসুমে এখান থেকে প্রায় ২০০ টন গোলের গুড় উৎপাদন হচ্ছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৪ কোটি টাকা।
নবীপুর গ্রামের গোলগাছ চাষি বিমল মৃধা জানান, অগ্রহায়ণ মাস থেকে ছড়া কাটা শুরু করেন তিনি। তার বাগান থেকে প্রতিদিন পাঁচ কলস রস পাওয়া যায়, যা দিয়ে প্রায় ১০ কেজি গুড় তৈরি হয়। অপর চাষি পরিমল হাওলাদার বলেন, তিনি বর্গা নেওয়া বাগান থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ কলস রস সংগ্রহ করে ১০ থেকে ১২ কেজি গুড় উৎপাদন করছেন। তারা চৈত্র মাস পর্যন্ত রস সংগ্রহ করবেন বলে জানান।
গোলগাছ চাষিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, এ গাছের পরিচর্যায় তেমন কোনো খরচ নেই। গুড় ছাড়াও গোলগাছের রস দিয়ে পিঠা ও পায়েস তৈরি করা হয়, যা অত্যন্ত মুখরোচক। এক সময় গোলের গুড় তেমন পরিচিত না থাকলেও এখন তা বাণিজ্যিকভাবে প্রসার লাভ করেছে এবং বিভিন্ন হাট-বাজারে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়ায় পরীক্ষামূলকভাবে গোলগাছের বীজ রোপণ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন বলেন, “গোলগাছ একটি অর্থকরী ফসল। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি সম্ভাবনাময়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং গোলগাছের চাষ আরও বাড়াতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।





















