• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সিএমএইচে চিকিৎসাধীন আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর লালবাগে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর সন্ধানে ভবনের মেঝে খুঁড়ে উদ্ধার অভিযান রাশিয়ায় ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারালেন ময়মনসিংহের আল মামুন গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও গ্রেপ্তার সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী ভিসায় বড় পরিবর্তন: চাকরি হারালে ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব মক্কা চুক্তির পর ইয়েমেনে সৌদি জোটের ব্যাপক বিমান হামলা, উত্তপ্ত পরিস্থিতি ২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন শেষ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর, সময় আর বাড়বে না শনিবার ভারতে শুরু হচ্ছে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন, পুতিনসহ বিশ্বনেতাদের আগমন যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে অসুস্থ মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস, গৃহবন্দিত্বের আবেদন আইনজীবীদের

৭২ একর খাসজমি বন্দোবস্তে দায় প্রমাণিত, সাবেক ইউএনও শহিদুল হকের এক বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত

রিপোর্টার: / ৭৯ পঠিত
আপডেট: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

 

৭২ একর খাসজমি বন্দোবস্তে দায় প্রমাণিত, সাবেক ইউএনও শহিদুল হকের এক বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: বহুল আলোচিত কলাপাড়ার ৭২ একর সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত কাণ্ডে অভিযুক্ত সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। তদন্তে প্রশাসনিক অবহেলা ও অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর এক বছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) স্থগিত রাখা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৫ শাখা গত ২৩ জুলাই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ৪২টি কবুলিয়তে স্বাক্ষর দেওয়ার কারণে মোট ৭১ দশমিক ৬৩ একর সরকারি খাসজমি অব্যবস্থাপনার শিকার হয়। এতে সরকারের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, ২০২২ সালে কলাপাড়ায় কর্মরত অবস্থায় ইউএনওর দায়িত্বের পাশাপাশি সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন শহিদুল হক। ওই সময় প্রায় ৭২ একর সরকারি খাসজমি ৪২ জনের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ ওঠে, বিপুল পরিমাণ ঘুষের বিনিময়ে আনুমানিক ২৫ কোটি টাকা মূল্যের এসব জমি বিত্তশালী ব্যক্তিদের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগ আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে অভিযুক্ত ইউএনও নিজেই বাদী হয়ে সার্ভেয়ার মো. হুমায়ুন কবিরকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে কলাপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের বিষয় থাকায় তদন্তের জন্য তা দুদক, পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এরপর দুদক অনুসন্ধান শুরু করলেও পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকাশ্যে আর কোনো তথ্য জানা যায়নি।

এদিকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী বিষয়টি অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় ২০২৫ সালে শহিদুল হকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগের জবাবে তিনি লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন জানান।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর তাঁর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে তাঁর বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অনুমোদিত সীমার বাইরে অস্বাভাবিক সংখ্যক কবুলিয়ত প্রস্তুত করা হয়েছে, জমির পরিমাণে গুরুতর অসামঞ্জস্য রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে কাটাছেঁড়ার স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথাযথভাবে যাচাই না করেই স্বাক্ষর দেওয়া প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে স্পষ্ট অবহেলার শামিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শহিদুল হকের বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী তাঁর এক বছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার লঘুদণ্ড প্রদান করে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ