• বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মূলধারার রাজনীতি ও ব্যবসায় আরও সক্রিয় হোন’—যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি ড. তিতুমীরের আহ্বান নিত্যপণ্যের কর প্রত্যাহার করে জনবান্ধব বাজেট দিয়েছি, মানুষের ভাগ্য বদলাতে চাই’—চকরিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিঙ্গাপুর বা কানাডা নয়, আমরা গড়তে চাই আরও ভালো বাংলাদেশ’—কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবুজে মোড়াবে কালিগঞ্জ: ৫ কিলোমিটার সড়কের পাশে ১০ হাজার গাছের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন চট্টগ্রাম সেনানিবাসে ‘স্মৃতি অম্লান’ জাদুঘর পরিদর্শন করলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা সৌদি আরব থেকে ৪৯,৯৮২ জন বাংলাদেশি হাজির দেশে ফেরা সম্পন্নের পথে শিক্ষায় সর্বোচ্চ বিনিয়োগই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি: শিক্ষা মন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় লক্ষ্য: ২০৩০ সালে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার খাতে কর-ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব

সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রিপোর্টার: / ১৭ পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলে যারা হুমকি দিচ্ছে, তারা জনগণের স্বার্থে নয়, নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে। এ ধরনের ব্যক্তিদের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বিএনপি আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করবে এবং তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করবে। জনগণ বিএনপিকে পাঁচ বছরের সময় দিয়েছে। যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা জনগণের স্বার্থে কথা বলছে না, নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে। তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।’

একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একাত্তরে তারা কী করেছিল, ’৮৬ সালে কী করেছিল এবং দীর্ঘ আন্দোলনের সময় কোথায় ছিল— দেশের মানুষ সবই জানে। দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা শহীদ হয়েছেন, গুমের শিকার হয়েছেন, মিথ্যা মামলার বোঝা বহন করেছেন, তাদের বড় একটি অংশ বিএনপির নেতা-কর্মী। জনগণ এবার বিএনপিকে বলেছে— তোমরা দেশ গড়ে তোলো, আগামী পাঁচ বছর তোমাদের সময় দিলাম দেশকে ঠিক করার জন্য। কারণ স্বৈরাচার দেশকে খালি করে দিয়ে গেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির প্রতিশ্রুতির পরিকল্পনা আসলে জনগণের পরিকল্পনা। যারা এই পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে চায়, তাদের সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপির আলাদা কিছু করার প্রয়োজন নেই, জনগণ সতর্ক থাকলেই হবে। কারণ এ দেশের প্রকৃত মালিক বাংলাদেশের জনগণ।’

তিনি বলেন, ‘দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ জনগণের হাতেই ন্যস্ত। জনগণ যদি সতর্ক থাকে, তবে কোনো অপশক্তিই দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।’

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, এসব কর্মসূচির জন্য অর্থ কোথা থেকে আসবে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিগত সময়ে যেভাবে দেশের অর্থ পাচার হয়েছে, তা আর হতে দেওয়া হবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অর্থ পাচার রুখে দেওয়া হবে। দেশের সম্পদ দেশের মানুষের কল্যাণেই ব্যয় হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামনের সময় কাজ করার, দেশ গড়ার এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সময়। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত যদি একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনগণ দেশ স্বাধীন করেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনগণই দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। কাজেই দেশ গড়ার দায়িত্বও জনগণকেই নিতে হবে। আমাদের সবার প্রথম ও শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ। তাই দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে।’

উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি, প্রত্যাশা ও কর্মপরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু হবে দেশ ও দেশের মানুষ। দেশ গড়াই হবে আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি।’

এদিন প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারের প্রান্তিক নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি ১০ জন নারী সদস্যের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন এবং অনলাইনের মাধ্যমে আরও ২১ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় তৃতীয় পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এ ছাড়া তিনি চা-শ্রমিকদের আবাসন, তাদের সন্তানদের বৃত্তি প্রদান এবং দুঃস্থ, অসহায়, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন।

সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারহানা শারমিন, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউস, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান এবং অনলাইনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

প্রস্তাবিত ক্যাপশন: মৌলভীবাজারে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও জনসভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ