
রাজধানীর লালবাগের ৯ নম্বর বিসি দাস স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামে এক ব্যবসায়ীর দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ভবনটিতে অভিযান শুরু করে এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ভবনের নিচতলার পাশের বারান্দার মাটি খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে লালবাগ থানা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্ধারকৃত মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর রনি নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্বজনরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিচতলার পাশের মাটির নিচ থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় মাসুম চৌধুরী নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিন লাখ টাকা সুদে নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। মাসুম চৌধুরীর দুলাভাই জানান, তার শ্যালক ইমিটেশন জুয়েলারির ব্যবসা করতেন এবং যে ভবনের পাশ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তার নিচতলায় মাসুমের পাইকারি কারখানা ছিল। মাসুমের দুলাভাইয়ের দাবি অনুযায়ী, প্রায় আট মাস আগে ওয়াসিম রনির কাছ থেকে মাসুম তিন লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। চুক্তিমতো প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা করে সুদ দেওয়ার কথা ছিল।
গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে ওয়াসিম রনি মাসুমের ব্যবসায়িক কক্ষে যান। মাসুমের দুলাভাই পুলিশের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন যে, সেখানে ওয়াসিম অচেতন হয়ে পড়ে যাওয়ার পর তাকে ভবনের পাশের মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ৯ নম্বর বিসি দাস স্ট্রিটের ওই ভবনে অভিযান শুরু করে পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর পর শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ভবনের নিচতলার পাশের মাটি খুঁড়ে ওয়াসিম রনির লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে মাসুম ওয়াসিমের মাথায় ঘুসি মারেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই স্থানেই মাটি দিয়ে লাশটি চাপা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিহতের স্ত্রীর ভাই মুরাদ হোসেন জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ওয়াসিমের যোগাযোগ হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মুরাদ হোসেন বলেন, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর থেকেই ওয়াসিমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিষয়টি জানার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে শুরু করেন।