• বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ন

প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও সময়সীমা মানার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

রিপোর্টার: / ৪ পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও ‘সবুজ পাতায়’ থাকা অননুমোদিত প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) পর্যালোচনা সভায় তিনি প্রকল্প পরিচালকদের এই সতর্কবার্তা দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই।

মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করার ওপর সভায় সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কোনো প্রকল্পের কাজে অহেতুক বিলম্ব মেনে নেওয়া হবে না। কারণ সময়ক্ষেপণের ফলে প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। তাই প্রতিটি প্রকল্পের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

কারাগার প্রকল্পের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও যাতায়াত সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ক্ষেত্রে বিলম্ব যৌক্তিক হলেও সিভিল ওয়ার্ক বা সাধারণ অবকাঠামোগত কাজে কোনো শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। বিশেষ করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদর দপ্তর নির্মাণের মতো অবকাঠামোগত কাজ নির্ধারিত সময়েই শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতি জেলায় ডগ স্কোয়াড গঠন, ফরেনসিক ল্যাবের সক্ষমতা বাড়ানো, হাজতখানা সংস্কার ও ডোপ টেস্টের সুবিধা সম্প্রসারণের কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। গ্রামীণ থানাগুলোকে মডেল থানায় রূপান্তরে একটি অভিন্ন প্রোটোটাইপ ডিজাইন অনুসরণের নির্দেশনাও এসেছে।

চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ‘জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা’ খাতে এডিপির আওতায় ২ হাজার ৬৬২ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২ হাজার ৫৫২ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ও অনুদান হিসেবে ১০৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সভায় অংশ নিয়ে সরকারি প্রকল্পের সুফল সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে পরামর্শ দেন। তিনি একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি এড়াতে পৃথক প্রকল্পের পরিবর্তে ‘প্রোগ্রামেটিক বা ক্লাস্টার অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারের বর্তমান মেয়াদে বড় অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে প্রকল্পগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও রিস্কোপিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার ভিশন বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিএনপির ‘নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬’-এর ২৬টি প্রতিশ্রুতি ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬-২০৩১ সালের পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক সংস্কার কৌশলের ‘থ্রি আর স্ট্র্যাটেজি’ অনুসরণের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সুসংহত করার পরিকল্পনা রয়েছে মন্ত্রণালয়ের।

সভায় নতুন ও সংশোধিত প্রকল্পের ডিপিপি দ্রুত প্রণয়ন, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লজিস্টিকস ও যানবাহনের সংকট সমাধানের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অধীন ১০টি সংস্থার প্রধান ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারাগারসংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও যাতায়াতের বিধিনিষেধের কারণে কাজের স্বাভাবিক গতি কিছুটা ব্যাহত হওয়া যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ছাড়া সরকারের পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশল (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১)-এর ‘থ্রি আর স্ট্র্যাটেজি’ অনুসরণ করে আইনশৃঙ্খলা খাতকে রূপান্তরধর্মী উন্নয়নের মাধ্যমে আরও সুসংহত করার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ