• বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদির এফ-১৫ ভূপাতিতের ভিডিও প্রকাশ হুতিদের চীন ও ভারতের ওপর শতভাগ শুল্কের ক্ষমতা পাচ্ছেন ট্রাম্প বেড়ে চলা বিমানভাড়া: নেপথ্যে বাড়তি খরচ ও রানওয়ে সীমাবদ্ধতা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকহীন লড়াইয়ের নতুন সমীকরণ যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ শতাংশ শুল্কের কবলে ভারতসহ ১০ দেশ রাজনৈতিক মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল মক্কায় হুথিদের হামলা চেষ্টা: তীব্র নিন্দা জানাল কাতার বিদেশি পণ্য ও প্রকল্পের সম্মানী নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস ওআইসি মহাসচিবের

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকহীন লড়াইয়ের নতুন সমীকরণ

রিপোর্টার: / ৩ পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নের সুফল নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক নতুন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এবার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকছে না, যা স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ভোটাররা প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল নেতাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের পাশাপাশি দায়িত্ববোধের একটি নতুন ধারা তৈরি হয়েছে। নেতারা নিজ উদ্যোগে ভোটারদের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। রাস্তাঘাট সংস্কার কিংবা স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানে তারা এখন অনেক বেশি মনোযোগী, যার ফলে ভোটার ও প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের পথ প্রশস্ত হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতীক না থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থিত নির্দিষ্ট প্রার্থীরা নির্বাচনে থাকতে পারেন, তবে দলের কোনো নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ থাকছে না। এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানো এবং ব্যক্তিগত দক্ষতার ভিত্তিতে প্রতিনিধি নির্বাচন করা। সরকার এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সময়মতো ভোট হওয়া জরুরি। নির্বাচিত প্রতিনিধি দায়িত্ব নিলে জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পায় এবং প্রশাসকদের দীর্ঘমেয়াদী দায়িত্ব পালনের সমালোচনাও কমে আসে।

নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে।

নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনপঞ্জি অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ ১২ নভেম্বর শুরু হবে। এরপর ১৩ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ধাপ, ৩০ ডিসেম্বর তৃতীয় ধাপ এবং আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ এবং সর্বশেষ ২৭ মে সপ্তম ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশে বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদের মতো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি জনগণের ভোটে বা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন নিজস্ব বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচনের দিন-তারিখ, সময় ও স্থান নির্ধারণসহ পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনার পূর্ণ ক্ষমতা রাখে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলীয় প্রতীক না থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ের সুযোগ বাড়বে। স্থানীয় কোনো বিরোধ থাকলে তা সমাধানে নেতারা এখন নিজেরাই উদ্যোগী হচ্ছেন, কারণ ভোটের মাঠে টিকে থাকতে হলে ভোটারদের আস্থা অর্জনের বিকল্প নেই। সামগ্রিকভাবে, এই নতুন কাঠামো তৃণমূলের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাস্তাঘাট মেরামত, স্কুল-কলেজের প্রয়োজনীয়তা এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে করণীয় নির্ধারণে ভূমিকা রাখছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জনপ্রিয়তা অর্জন এবং ভোটারদের আস্থা ধরে রাখতে নেতারা এলাকায় সময় দিচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীকে সামনে আনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দলীয় প্রতীক না থাকলেও কোনো প্রার্থী কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত, তা স্থানীয়ভাবে মানুষের কাছে পরিচিত হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে সঙ্গে নিয়ে বেশ কয়েকটি বৈঠকও হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতাকে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করার বার্তাও দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২০ ধারায় বলা হয়, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত বিধি অনুসারে ইসি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচন আয়োজন, পরিচালনা ও সম্পাদন করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ