• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ কাতারে চাকরির সুযোগ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তি সাত মাসে বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত হয়েছে: মাহদী আমিন ইমিগ্রেশন ছাড়াই দিল্লি থেকে লাপাত্তা ৩ বিদেশি সরকারি সফরে জাপানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ইয়েমেনে সংঘাতের জেরে বাস্তুচ্যুত লক্ষাধিক মানুষ ইসরায়েলে ৪০ হাজার শক্তিশালী বোমা পাঠানোর পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের বোর্ডিং পাস দিয়েও শিশুকে বাধা, কাতার এয়ারওয়েজকে বড় জরিমানা গুলশানের আ.লীগের মিছিল নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি

সাত মাসে বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত হয়েছে: মাহদী আমিন

রিপোর্টার: / ২ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত সাত মাসে দেশে মানুষের অভূতপূর্ব বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের জঞ্জাল রাতারাতি দূর করা কঠিন। তবে সরকারের দাবি, এই সাত মাসে কোনো রাষ্ট্রীয় মদদে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। অতীতে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে যেভাবে বিরোধী মতের তালিকা করে নিগ্রহ চালানো হতো, বর্তমান প্রশাসন সেই সংস্কৃতি থেকে সরে এসেছে। এখন কোনো স্থানীয় পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক ভুল বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সরকার অবিলম্বে তা জবাবদিহিতার আওতায় আনছে এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

তিনি আরও বলেন, এই গণতান্ত্রিক ধারাকে সরকার একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বদ্ধপরিকর। তৃণমূল পর্যায়ে কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি দেখা দিলে তা ধামাচাপা না দিয়ে তথ্য পাওয়া মাত্রই তদন্ত ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্র থেকে দমন-পীড়নের পুরনো সংস্কৃতি ভেঙে প্রান্তিক মানুষের অভিযোগকে প্রাধান্য দেওয়াই বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম ইতিবাচক পরিবর্তন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে মাহদী আমিন বলেন, এটি নির্দিষ্ট কোনো দলের আন্দোলন ছিল না। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও প্রবাসীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এটি সফল হয়েছে। ফ্যাসিবাদী আমলে বিএনপির ৬০ লক্ষাধিক নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন এবং হাজার হাজার সহযোদ্ধা গুম বা শহীদের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফসল আজকের এই মুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।

আইন প্রণয়নের বিষয়ে তিনি জানান, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শতাধিক অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপ দেওয়া হয়েছে, যা অতীতে বিরল। নতুন আইনগুলোর খসড়া উন্মুক্ত করে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে তা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, আইন যেন জনবান্ধব ও বাস্তবসম্মত হয় এবং যারা গঠনমূলক ভূমিকা রাখছেন, তাদের সঙ্গে যেন নিরবচ্ছিন্ন পরামর্শ বজায় থাকে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইনের অক্ষরের চেয়ে তার প্রয়োগ এবং মানবিক ব্যাখ্যা নিশ্চিত করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাসিবাদের সময় সংবিধানের নানা অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, যা থেকে দেশ এখন মুক্ত হয়েছে। তিনি মনে করেন, আজকের বাংলাদেশে অশালীন আচরণও করা হচ্ছে কিন্তু সরকার পরম সহিষ্ণুতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখে কাজ করছে।

মাহদী আমিনের মতে, বাংলাদেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে বিএনপির ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত। তিনি উল্লেখ করেন, বাকশালের পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ঘটে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ ফের গণতান্ত্রিক পথে ফিরে এসেছে।

পরিশেষে, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও বেসরকারি খাতসহ তরুণ ও নারী সমাজকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নিয়ে সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তের ঋণ শোধ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে কাঙ্ক্ষিত মর্যাদায় আসীন করার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদ পরবর্তী পুঞ্জীভূত জঞ্জাল একবারে রাতারাতি মূলোৎপাটন করা দুরূহ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোথাও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো গুম হয়নি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি কিংবা নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সামনের দিনগুলোতে এই স্বচ্ছতা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে পোশাক শ্রমিক, রিকশাচালক, প্রবাসী, নারী, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে এতে অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, এমন একটি জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছিল, যেখানে সবাই ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতো দ্রুত সময়ে এতো বিপুল সংখ্যক আইন সংসদীয় প্রক্রিয়ায় পাস করার নজির অতীতে বিরল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মনে রাখতে হবে, আইন প্রণয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ