• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

ইয়েমেনে সংঘাতের জেরে বাস্তুচ্যুত লক্ষাধিক মানুষ

রিপোর্টার: / ২ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের কারণে মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পশ্চিম উপকূলে সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এক লাখেরও বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

এই সংকটে ইয়েমেনে আশ্রিত ৬৫ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। বাস্তুচ্যুত পরিবারের সদস্যদের জরুরি চাহিদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইউএনএইচসিআরের তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজন। এছাড়া সীমান্ত পেরিয়ে জিবুতিতে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের জন্যও সংস্থাটি বর্ধিত সহায়তা প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।

সংঘাতের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে বাস্তুচ্যুত সাধারণ মানুষের বর্ণনায়। আয়েশা মুহাম্মদ নামের এক নারী জানান, গত সপ্তাহে বন্দরনগরী মোচার কাছে তাদের গ্রামটি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর তিনি তার পাঁচ সন্তানকে ফেলে রেখে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, তার সন্তানেরা সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং প্রতিনিয়ত গুলি ও অবরোধের মুখে তারা বাড়ি থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। একই অবস্থা বর্ণনা করেছেন হোদেইদা থেকে পালিয়ে আসা হুসেইন হায়দারা। তিনি জানান, গোলাবর্ষণ ও স্নাইপারদের গুলির হাত থেকে বাঁচতে পরিবার নিয়ে আকস্মিকভাবে বাড়ি ছাড়তে হয়েছে তাকে। জীবন বাঁচাতে তিনি চরম দ্রুততার সাথে এলাকা ত্যাগ করেন।

এদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ জিবুতিতে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ইউএনএইচসিআর-এর তথ্যমতে, গত চার দিনে আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ সমুদ্রপথে বিপজ্জনক বাব আল-মান্দেব প্রণালি পাড়ি দিয়ে জিবুতিতে পৌঁছেছেন। জিবুতিতে জাতিসংঘের প্রতিনিধি সান্দ্রিন দেজামুর জানিয়েছেন, দীর্ঘ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা শেষে বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো সেখানে পৌঁছাচ্ছেন। তাদের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংঘাতময় এলাকায় আটকে থাকা বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সহায়তার পথ সুগম করতে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন ইয়েমেনের এই অস্থির পরিস্থিতির দিকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, সহিংসতা আরও বাড়লে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে নতুন করে মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি সীমিত সম্পদের ওপর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাপও বাড়বে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইউএনএইচসিআর বলেছে, অনেক পরিবারকে অল্প সময়ের নোটিশে ঘর ছাড়তে হয়েছে এবং সঙ্গে নিতে পেরেছে খুব সামান্য জিনিসপত্র। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাস্তুচ্যুতদের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও সুরক্ষা সেবা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ