• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ

রিপোর্টার: / ৪ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার ঔপনিবেশিক রাজনীতির স্বরূপ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিশ্ব ইতিহাসের দিকে তাকালে নানা চমকপ্রদ অথচ রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। ২০০১ সালে বর্ণবাদ, জাতিবিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা বিষয়ক বিশ্ব সম্মেলনে গৃহীত ডারবান ঘোষণা অনুযায়ী, ঔপনিবেশিকতা বর্ণবাদ এবং জাতিগত বৈষম্যের জন্ম দিয়েছে। আফ্রিকা, এশিয়া এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষ ঐতিহাসিকভাবে ঔপনিবেশিকতার শিকার হয়েছেন এবং আজও এর কুফল বয়ে বেড়াচ্ছেন।

রাজনৈতিক তত্ত্বের আলোকে উপনিবেশবাদকে বুঝতে গিয়ে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত খ্যাতিমান মার্কিন বুদ্ধিজীবী এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদ (১৯৩৫-২০০৩) একে সাম্রাজ্যবাদের কুফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, সাম্রাজ্যবাদী শক্তি দূরবর্তী কোনো অঞ্চল দখল করে সেখানে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার প্রক্রিয়া থেকেই উপনিবেশবাদের উদ্ভব। অন্যদিকে, রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের নেতা ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন (১৮৭০-১৯২৫) ১৯১৭ সালে অর্থনীতি ও পুঁজিতন্ত্রের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সাম্রাজ্যবাদকে পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ পর্যায় এবং উপনিবেশবাদকে এর অন্যতম সহজাত উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।

উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের সংজ্ঞা এবং এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বুঝতে নিম্নোক্ত উৎসগুলো বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ

  1. Edward W. Said, Culture and imperialism, p. 8
  2. Michael W. Doyle, Empires, p. 45
  3. Niall Ferguson, Empire: How Britain made the modern world, p. XXV

এডওয়ার্ড সাঈদ সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে শিল্প-সাহিত্যের সম্পর্ক নিয়ে নিজের গবেষণায় মিশেল ডয়েলের সাম্রাজ্য সংক্রান্ত ধারণাকে ব্যবহার করেছেন। ডয়েলের মতে, সাম্রাজ্যবাদ হলো সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা ও তা টিকিয়ে রাখার একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার দুটি অনিবার্য অনুষঙ্গ হলো বর্ণবাদ ও পুরুষতন্ত্র। সাধারণভাবে পঞ্চদশ শতাব্দীর শুরু থেকে বিংশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল ইউরোপীয় শক্তির শোষণের অধীনে ছিল। পর্তুগাল ও স্পেনের সমুদ্রপথে বাণিজ্য বিস্তারের মাধ্যমে আমেরিকা মহাদেশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এই ঔপনিবেশিক যুগের সূচনা হয়।

পরবর্তীকালে সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স ও ব্রিটেন বিভিন্ন কর্পোরেট কোম্পানি যেমন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (১৬০০-১৮৭৪) ও ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে তাদের শাসন-শোষণ ছড়িয়ে দেয়। ব্রিটিশদের প্রাথমিক সাম্রাজ্য বিস্তারের নেপথ্যে ছিল অভ্যন্তরীণ ভোক্তা অর্থনীতির চাহিদা, বিশেষত ক্যারিবীয় অঞ্চলের চিনি এবং এশিয়ার মসলা, চা ও বস্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা। এই দীর্ঘ সময় জুড়ে দখলদার শক্তির চাপিয়ে দেওয়া ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার রাজনৈতিক কৌশলের ক্ষত আজও উত্তর-ঔপনিবেশিক সমাজ ও রাষ্ট্রে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার ঔপনিবেশিক রাজনীতি – ১। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: Colonialism has led to racism, racial discrimination, xenophobia and related intolerance [। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: Africans and people of African descent, and people of Asian descent and indigenous peoples were victims of colonialism and continue to be victims of its consequences. -Durban Declaration of the World Conference against Racism, Racial Discrimination। 2001. প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহের সাধারণ পরিচয় এবং পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের বিস্তার ও শাসন-শোষণের নির্দিষ্ট সময়কাল সম্পর্কে ধারণাও আমাদের এই আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন অধিকৃত অঞ্চলে নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য উপনিবেশবাদ কী কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, বিশেষত উপনিবেশিত অঞ্চলের ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার রাজনৈতিক পুনর্গঠনের ভেতর দিয়ে উপনিবেশবাদ কীভাবে কাজ করে গেছে, সেই আলোচনাটি তার পর্যালোচনা জরুরি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরিশেষে আমরা আলোচনা করব, ঔপনিবেশিক শাসনের প্রত্যক্ষ অবসানের পরও ‘স্বাধীন’ দেশগুলোতে কীভাবে নানা ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা রাষ্ট্রের জনস্বার্থপরায়ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে অন্তরায় হিসেবে জারি থাকে এবং সেই অন্তরায়গুলো অতিক্রম করার জন্য কীভাবে ঔপনিবেশিক অবশেষগুলোর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উপনিবেশবাদ শব্দটি, রাজনীতি-সচেতন পাঠকমাত্রই অবগত, ইংরেজি ‘colonialism’ শব্দের বাংলা অনুবাদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ