• বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

স্ত্রীসহ আসিফ মাহমুদের সম্পদের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে দুদক

রিপোর্টার: / ১ পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়িক সম্পদের তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি চেয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালামের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে এই অনুসন্ধান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই পদক্ষেপের বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন।

তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দেশে ও বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর এবং সুইজারল্যান্ডে তার জমি ক্রয়, শেল কোম্পানি গঠন এবং অবৈধ উপায়ে অর্থপাচারের বিষয়গুলো অনুসন্ধানের আওতায় নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন কি না এবং তিনি বা তার পরিবারের কোনো সদস্য বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন কি না, তা নিয়েও বিএফআইইউর কাছে বিশদ তথ্য চাওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের এই পাঁচটি দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এই অনুসন্ধানের আওতায় তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপ-সচিব মো. সাঈদুর রহমানও রয়েছেন। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করেছে কমিশন। এই অনুসন্ধানের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরপরই গত ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের মুখপাত্র ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান আসিফ মাহমুদ। তিনি বিষয়টিকে নিজের মানহানি দাবি করে দুদকের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য আইনি নোটিশও পাঠিয়েছিলেন। তবে তার এই পদক্ষেপের আগেই ৯ সেপ্টেম্বর দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান আইন অনুযায়ী চলমান অনুসন্ধানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।

তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নিয়োগ ও পদায়ন বাণিজ্য, বিভিন্ন জেলায় ডিসি নিয়োগে ঘুষ লেনদেন এবং সিটি করপোরেশনের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কমিশন গ্রহণের অভিযোগে নতুন একাধিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। কমিশন জানিয়েছে, আগের অভিযোগগুলোর পাশাপাশি নতুন পাওয়া এই গুরুতর অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই শেষে একটি সমন্বিত অনুসন্ধান প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে। সামগ্রিক এই প্রক্রিয়াটি এখন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন, যেখানে আসিফ মাহমুদের পাশাপাশি অন্যান্য অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা ও আর্থিক লেনদেনের উৎসগুলো পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাহেদ কালামের সই করা চিঠির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চাওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে– দেশের সব ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাদের নামে থাকা সব ধরনের হিসাবের (চালু, সুপ্ত বা বন্ধ) বিস্তারিত বিবরণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণসংক্রান্ত নথিপত্র। চাকরির আরও তথ্য: গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ-বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেখানে অবৈধ প্রক্রিয়ায় নিজ দুই বোন জামাই ও ভাগ্নেকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: পাচারকৃত অর্থের মধ্যে দুবাইতে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাঠিয়ে সেখানে বিলাসবহুল ভিলা ক্রয়, বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং ‘গ্রীন গ্রুপ’-এ মূলধন যোগানোর অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর সিঙ্গাপুরে অবৈধ উপায়ে ৩ হাজার কোটি টাকা পাচার করে বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: দুদক জানায়, নতুন অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা করে লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ