
ইরানের তরফ থেকে যুদ্ধ বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি সাত দিনের রোডম্যাপ বা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। শনিবার হোয়াইট হাউস থেকে টেনেসির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি ইরানের এই প্রস্তাব গ্রহণ করছেন না।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছিলেন, কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পাঠানো হয়েছে। ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সপ্তম দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার টেবিল শুরু করার পরিকল্পনা ছিল তেহরানের।
তেহরানের এই প্রস্তাবের শর্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং লেবানন ও ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা। এছাড়া, প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ ছাড় করার দাবিও ছিল সেই তালিকায়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ওয়াশিংটন এই শর্তগুলোতে সম্মত হলেই সাত দিনের সময়সীমা গণনা শুরু হবে।
প্রস্তাবটি জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছিল, যা পরবর্তীতে ভেঙে গিয়েছিল। এদিকে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে, ট্রাম্পের প্রত্যাখানের পাশাপাশি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে পুনরায় বোমা হামলার বিষয়টিও প্রশাসনের আলোচনায় উঠে এসেছে, যদিও এই তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায়, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে অঞ্চলটিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।