• বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
গাজার ধ্বংসস্তূপ: স্যাটেলাইট ইমেজে ফুটে উঠল চিত্র বাংলা কিউআর লেনদেনে কোনো ফি লাগবে না: অর্থমন্ত্রী শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে রূপপুরের জন্য নতুন ইউরেনিয়াম জ্বালানি মেট্রোরেলের লাইন-১ ও ৫ প্রকল্পে ৪৬ হাজার কোটি টাকার ইন্দোনেশিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে বাংলাদেশ তুরস্কের দুরুপিনার ফরমেশনে ফের নূহের নৌকার বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান নির্ধারিত দামেই এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে কঠোর হুঁশিয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসিক এলাকায় বিমান বিধ্বস্ত, নিহত অন্তত ৪ সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ: আসন শূন্য ঘোষণা এশিয়ান গেমস ফাইনালে মুখোমুখি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান

মেট্রোরেলের লাইন-১ ও ৫ প্রকল্পে ৪৬ হাজার কোটি টাকার

রিপোর্টার: / ৩ পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

রাজধানীর ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের লাইন-১ ও লাইন-৫ প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজের জন্য প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সংক্রান্ত আটটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। কমিটির সভায় পাঁচটি প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাব সরাসরি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং বাকি তিনটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। প্রাক্-যোগ্যতা অর্জনকারী তিন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটিই প্রস্তাব জমা দেয়। টিবিএম চালুর জন্য শ্যাফটও নির্মাণ করা হবে।

অনুমোদিত পাঁচটি প্যাকেজের মধ্যে লাইন-১ এর সিপি-০২, সিপি-০৬, সিপি-০৯ ও সিপি-১০ এবং লাইন-৫ প্রকল্পের সিপি-০৩ প্যাকেজের পূর্তকাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এবং এতে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে অর্থায়ন করছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেকে এই দুই প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত রূপ অনুমোদন পায়, যেখানে প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

লাইন-১ প্রকল্পের চারটি প্যাকেজের মোট ব্যয় ৩৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর অবকাঠামো যেমন—ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড, অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টার ও টেকনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের জন্য ৪ হাজার ২৮৫ কোটি ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কারিগরি মূল্যায়নের পর সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগকে এই কাজের জন্য নির্বাচন করা হয়। এদিকে সিপি-০৬ প্যাকেজে বিমানবন্দর থেকে খেলক্ষেত পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণের জন্য ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ ৭ হাজার ২৯৯ টাকা ব্যয় হবে, যা জাপানের নিশিমাতসু, টিপিএল ও টোডা কনসোর্টিয়াম বাস্তবায়ন করবে। কারিগরিভাবে সব প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হওয়ার পর সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়। এতে দুটি সুড়ঙ্গ ও তিনটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন থাকবে—বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ ও খেলক্ষেত। তাদের দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দরের তুলনায় ভ্যাট ও কর বাদে ৩২ দশমিক ০৫ শতাংশ বেশি। এর আওতায় ১৩২ কেভি প্রাথমিক ফিডার, রিসিভিং ও সহায়ক উপকেন্দ্র, ৩৩/০.৪১৫ কেভি বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং ১ হাজার ৫০০ ভোল্টের ওভারহেড বিদ্যুৎ সংযোগব্যবস্থা থাকবে। তাদের দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ভ্যাট ও কর বাদে ৪৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি।

লাইন-১ প্রকল্পের সিপি-০৯ প্যাকেজে ট্র্যাক ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপনে ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ ৭২ হাজার ১৫০ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার দায়িত্ব পেয়েছে লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি) ও সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগ। এছাড়া সংকেত, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্মের দরজাসহ প্রযুক্তিগত কাজের সিপি-১০ প্যাকেজে ব্যয় হবে ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ ৩১ হাজার ৭১৬ টাকা, যা বাস্তবায়নের জন্য লারসেন অ্যান্ড টুব্রো লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে। সিপি-০৯ প্যাকেজে রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিংসহ ট্র্যাক নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।

অন্যদিকে লাইন-৫ এর উত্তর রুটের সিপি-০৩ প্যাকেজের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ ও পাঁচটি স্টেশন নির্মাণের জন্য ২ হাজার ৬৭০ কোটি ৯৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬০ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। এই কাজটি করার জন্য চীনের সিআরইসি, এমআইএল ও এমবিইএলের যৌথ উদ্যোগকে নির্বাচিত করা হয়েছে।

বৈঠকে আরও তিনটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে লাইন-১ প্রকল্পের সিপি-০৪ প্যাকেজে রামপুরা থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণের জন্য ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬৫৬ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে এবং জাপানের টোকিউ-মিল কনসোর্টিয়ামকে সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া লাইন-১ এর ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার লাইন নির্মাণের সিপি-০৭ প্যাকেজের চুক্তিমূল্য ২ হাজার ৫৩৪ কোটি ৯ লাখ ৪৩ হাজার ২৪১ টাকা, যা সিআরইসি-মিল-এমবিইসি কনসোর্টিয়ামকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

পরিশেষে, লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৮৪৭ কোটি ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৮ টাকা ব্যয়ে কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম ও হ্যানিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। মূলত ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই বিশাল অংকের আর্থিক ও অবকাঠামোগত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ