• সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০২ ডলার ছাড়াল ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি: থাকবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কূটনীতিকে আরও অর্থনীতিকেন্দ্রিক করার ওপর জোর দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী সৌদি-আমিরাত সম্পর্ক: অভিন্ন স্বার্থে পুরনো দ্বন্দ্ব ভুলে এক কাতারে? ২০২৭ সালে রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা: জামিনে মুক্ত গোলাম মহিউদ্দিন সরকারের সাথে সমঝোতা ব্যর্থ, ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআইয়ের লংমার্চ

সরকারে হুনি ঘর দ্যায়, আমারে একটা ঘর দ্যান! আর কষ্ট সইতে পারিনা- অসহায় আলেয়ার আকুতি./দৈনিক ক্রাইম বাংলা।

রিপোর্টার: / ২৯৮ পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২

এম.জাফরান হারুন, নিজস্ব প্রতিনিধি, পটুয়াখালী:: সরকারে হুনি ঘর দ্যায়, আমারে একটা ঘর দ্যান! আর কষ্ট সইতে পারিনা। কতো কষ্টে আমি থাহি কেউ আমারে একটু দ্যাহেও না। কি ক্ষোতি করছি মেম্বার চেয়ারম্যানের। কেন আমারে দ্যাহেনা বলে অসহায় গরীব বৃদ্ধা বিধবা আলেয়া বেগম (৭৫) এর আকুতি যেন দুচোখের পানি ধরে রাখা যায় না। যেন এই বৃদ্ধার আকুতি মেঘঝড়া কান্না।

ভাংগাচুরা ঘর দেখতে মঙ্গলবার (১৬ আগষ্ট ) বিকেলের দিকে সরেজমিনে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডভূক্ত পূর্ব কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত মন্নান বাদশার স্ত্রী বৃদ্ধা বিধবা আলেয়া বেগমের বাড়ি গেলে সাংবাদিক এসেছে ঘর দেখতে কথা শুনেই আকুতি করতে করতে ভাংগাচুরা ঘর থেকে বের হতেই ভাংগা পুরানো টিনের খোচায় মাথার উপর কাপড়ের আচলটি ছিড়ে যায়। তা ছাড়িয়ে এসেই বলে ‘ ওবাবা কির লইগ্গা আইছ, কি দ্যাকতে আইছ, আমার ঘর দ্যাকতে আইছ, দ্যাহো বেশি বেশি কৈররা দ্যাহো! আমি এই ঘরে দিনরাইত কতো কষ্ট করতে আছি। আমারে কেউ দ্যাহেনা। সরকারে হুনি ঘর দ্যায়, আমারে একটা ঘর দ্যান! আর কষ্ট সইতে পারিনা! কতো কষ্টে আমি থাহি কেউ আমারে একটু দ্যাহেও না। কি ক্ষোতি করছি মেম্বার চেয়ারম্যানের। কেন আমারে দ্যাহেনা বলে কান্নাকাটি করতে থাকে বৃদ্ধা আলেয়া বেগম। পরে সান্ত্বনা দিয়ে থামানো হয় তাকে।

এসময় বাড়ির লোকজন সহ আশপাশের লোকজন জানান, আজ থেকে প্রায় ১৫/১৮ বছরের মতো হবে তার স্বামী মারা যায়। যদিও তার দুই মেয়ে তা স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় বিয়ে দিয়ে যায়। তারপর থেকে এই বৃদ্ধা আলেয়া বেগম একা হয়ে যান। জীবন বাচানোর তাগিদে বৃদ্ধা বয়সে মানুষের বাসায় বাসায় কাজকর্ম করেন। সন্ধ্যা হলেই মাথা গোজার জন্য একটু ঘুমানোর জন্য এই ভাংগাচুরা ঘরে আশ্রয় নেন। ঘর-দুয়ার ভালো না দেখে প্রায় ৮/১০ বছরের মতো হয় মেয়ে ও জামাই আসেনা। প্রতিদিন এই ঘরে দুর্ভোগ ভোগান্তিতে কাটে দিনরাত তার। একটু ঝড় বৃষ্টি হলেই দৌড়ে চলে আসে আমাদের ঘরে। আর কান্নাকাটি করে।

লোকজন আরও জানান, যাদের ঘর নেই তাদেরকে সরকার প্রশাসন ঘর দেয়। আমাদের পক্ষ থেকে আকুল আবেদন সরকার প্রশাসনের প্রতি তারা যেন এই বৃদ্ধা আলেয়ার খোঁজখবর নিয়ে একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দেন। এর মতো অসহায় হতবাগি আর কেউ নেই। আজকে যদি ছেলে থাকত তাহলে আশা ভরসা ছিল। এর কষ্ট আমাদের আর সৈর্য্য হয় না।

এপ্রসঙ্গে স্থানীয় মেম্বার মোহাম্মদ জালাল মোল্লা বলেন, একবার তার কাগজপত্র এনেছিলাম!

স্থানীয় চেয়ারম্যান এসএম ফয়সাল আহমেদ বলেন, শুনেছি মহিলাটা খুব কষ্টে আছে। তার একটা ঘরের খুব প্রয়োজন। যাতে মহিলাটার মাথা গোজার একটু ঠাই হয় সেই লক্ষ্যে একটি সরকারি ঘর পাওয়ার জন্য চেষ্টা করব।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, এখন ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ চলছে। যেহেতু আপনি প্রতিবেদকের কাছ থেকে বিষয়টি জানলাম অবশ্যই তাকে গৃহহীনদের তালিকায় রেখে ঘরের ব্যবস্থা করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ