৪৭ থেকে ২৪—দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল আজকের বাংলাদেশ: জামায়াত আমির
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আজকে আমরা যে বাংলাদেশ দেখছি, এই বাংলাদেশ পেতে ১৯৪৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে।” তিনি বলেন, এই দীর্ঘ সময়ের লড়াইয়ে অসংখ্য ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আজকের বাস্তবতা এসেছে।
শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন-২০২৫-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রনেতা আব্দুল মালেক থেকে শুরু করে সর্বশেষ বিপ্লবী শহীদ শরিফ ওসমান হাদি পর্যন্ত অনেকেই জীবন দিয়েছেন। আমরা তাদের রক্তের কাছে ঋণী।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রদের হাত থেকে কলম কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে অস্ত্রের পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ, ক্যারিয়ার এবং মেয়েদের নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা ছিল না।
“সেই কালো অধ্যায় আজ বিদায় নিতে শুরু করেছে, কিন্তু কালো ছায়া এখনো পুরোপুরি কাটেনি,”—যোগ করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, “এই কালো ছায়া পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত আমার লড়াই চলবে, ছাত্রশিবিরের লড়াই চলবে।”
শিবির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জীবনের এক পর্যায়ে এসে তারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন, এখন লড়াইয়ের শেষ গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছানোর দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির আজ সাধারণ কোনো ছাত্র সংগঠন নয়; চব্বিশের বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ছাত্রসমাজ তাদের ভালোবাসা ও আস্থার মাধ্যমে শিবিরকে একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব দিয়েছে।
“আজ ছাত্রশিবিরকে ছাত্রসমাজের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে,”—বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে চরিত্রগঠন, নৈতিক শিক্ষা, আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেন শিক্ষাঙ্গনে কলমের বদলে অস্ত্র না ওঠে, মাদকের আগ্রাসন না বাড়ে এবং মা-বোনেরা নিরাপদ পরিবেশে লেখাপড়া করতে পারে—এই দায়িত্ব এখন ছাত্রশিবিরের কাঁধে।
তিনি বলেন, “তোমাদের কাঁধে অসংখ্য শহীদের লাশ এবং ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশার বোঝা। আল্লাহ যেন এই বোঝা বহনের শক্তি দেন।”
যুবসমাজ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বেকার ভাতা নয়—প্রত্যেক যুবকের হাতে কাজ তুলে দিয়ে তাদের দেশ গড়ার কারিগরে পরিণত করতে চান তারা।
“এই যুবকরাই আগামী দিনে সব ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাবে,”—বলেন তিনি।
ভোটের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্রসমাজ শিবিরকে ইনসাফের প্রতীক হিসেবে দেখছে বলেই তাদের সমর্থন দিয়েছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ইনসাফের বড় অভাব। কোরআন ও রাসূলের (সা.) সুন্নাহ ছাড়া দুনিয়ায় কোথাও প্রকৃত ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।”
শেষে তিনি বলেন, আল্লাহর বিধান অনুযায়ী মানুষের জীবনে শৃঙ্খলা ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে জামায়াতে ইসলামী দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।