• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
যুদ্ধের কারণে আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, সার কারখানা স্থাপনেও সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ তোমাদের মধ্যেই দেখি নতুন বাংলাদেশ, নতুন স্বপ্ন’—শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি কলাপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমজীবী নুরুল ইসলাম ফকিরের মৃত্যু কলাপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় পিতা ও পুত্রকে পিটিয়ে আহত ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সমন্বিত কর্মসূচির আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর ফার্মেসিতে নকল ও ভেজাল ওষুধের ঝুঁকি, নজরদারি জোরদারের দাবি আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায়, বদলাতে পারে মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের নাম

কলাপাড়া উপজেলার মহিপুরে ত্রান বিতরণে অনিয়ম নয়-পাওয়ার আবেদন ॥

রিপোর্টার: / ৫১৪ পঠিত
আপডেট: শনিবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২১

মোঃ শাহাবুদ্দিন স্টাফ রিপোর্টারঃ   কলাপাড়া উপজেলার মহিপুরে,  বিভিন্ন সময় ত্রান বিতরণে অনিয়ম বা দূর্নীতি নিয়ে পত্র-পত্রিকা ও অনলাইনে পোট্রালে লেখা-লেখি হচ্ছে। ঠিক সেভাবেই ত্রান বিতরণে অনিয়ম বা দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে মহিপুর থানার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নে। ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের হতদরিদ্রদের একাধীক অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৮ জানুয়ারী সকাল ১০টার দিকে সড়েজমিনে তদন্তে গেলে দেখা যায়, যারা ত্রান পায়নি তারা প্রকৃত পক্ষে হত দরিদ্র এবং ত্রান সহযোগিতা পাওয়ার যোগ্য। তবে তারা কেন ! খাদ্য ত্রান সামগ্রী পায়নি! নাকি ইউপি সদস্যদের আত্মসাত।
আসল সত্যিটি জানতে যাওয়া হয় গ্রাম আদালত বা ইউনিয়ন পরিষদে। পরিষদেই পাওয়া যায় অভিযুক্ত ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আসাদুজ্জামান জুয়েল’কে। জুয়েল জানান, বর্তমানে যেসকল খাদ্যত্রান সামগ্রী হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে এটি কোন সরকারী নয়। ‘গুড নেইবারস বাংলাদেশ’ নামের একটি বেসরকারী সংস্থা। সংস্থার প্রজেক্ট ম্যানেজার কিরণ বাড়ই সংস্থার নীতিমালা অনুয়াযী ওয়ার্ডপ্রতি ১৪৮ জন হত দরিদ্রের সহায়তা দেয়া যাবে মর্মে তালিকা চেয়েছেন। স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়নে সংশ্লীষ্ট ওয়ার্ডের বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি (সিপিপি)’র একজন সদস্য নিয়ে তালিকা করার পরামর্শদেন। ৩নং ওয়ার্ডের সিপিপ’র সদস্য ৯৮ নং আমেনা খাতুন সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে তালিকা করেণ। এতে ওই ওয়ার্ডে ১৯০ জন হতদরিদ্রদের নামের তালিকা দেওয়া হয়।
কিন্তু প্রজেক্ট ম্যানেজার কিরন বাড়ই সংস্থার নীতি মালার বাইরে কাউকেই ত্রাণসামগ্রী দিতে পারবেননা জানিয়ে ১৪৮জনের নাম প্রজেক্টের ফরমে তালিকা ভুক্ত করেন। ফলে ৪২জনের নাম বাদ পরে। বাদ পরে যাওয়া হতদরিদ্ররা বিষয়টি বুঝতে না চেয়ে, না পাওয়ার বেদনায় গণমাধ্যমে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। শুধু তাই নয়, সম্মান নিয়ে বেচেঁ থাকতে হলে ইউপি সদস্য পদ থেকে অব্যহতি দেয়া ছাড়া উপায় নেই। নছেৎ সংশ্লীষ্ট সংস্থা কর্তৃক ওই সকল হতদরিদ্ররা যাতে ত্রান সামগ্রী পেতে পারে তার ব্যাবস্থা করতে হবে।
এ ব্যাপারে প্রজেক্ট ম্যানেজার কিরণ বাড়ই বলেন, জাপান’ রাষ্ট্রের অর্থায়নে হতদরিদ্রদের মাঝে ৪০ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি তৈল, ৫ কেজি আলু, ২ কেজি লবন খাদ্য ত্রান সমগ্রী বিতরণের জন্য মাত্র এক মাসের প্রকল্প দিয়েছে। এতে কলাপাড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে তারা কাজ করছে। বর্তমানে যে সকল হত-দরিদ্ররা না পাওয়ার বেদনায় সংশ্লীষ্ট জন-প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে দূর্নীতির ভুল তথ্য দিয়ে বিব্রতকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। এ থেকে উত্তরোনের জন্য সংশ্লীষ্ট প্রজেক্টের উর্দ্বোতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করে ত্রান সহযোগিতার আওতাভুক্ত করা যায় কিনা? গণমাধ্যমের এমন দীর্ঘ লাইনের প্রশ্নে জবাবে কিরণ বাড়ই বলেন, প্রাথমিক ভাবে তিনি বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেননি এবং সংশ্লীষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করবেন। তাদের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে যারা পায়নি তাদেরজন্য নতুন করে বরাদ্দ করবেন কিনা। তবে এই মুহুর্তে তালিকা ভুক্ত ১৪৮জনের বাহিরে কাউকে সন্তেষ্ট রাখার কোন সুযোগ নেই।
অপর দিকে ইউনিয়নের নির্বাচিত সফল চেয়ারম্যান আঃ ছালাম সিকদারের মৃত্যুতে প্যানেল ও (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান মোঃ শাহাবুদ্দিন বলেন, ত্রাণ বিতরণে কোন প্রকার অনিয়ম হয়নি, তবে যে সকল হত-দরিদ্ররা ত্রান বা সহায়তা পাওয়ার যোগ্য কিন্তু সংস্থার নিয়মের চেয়ে অতিরিক্ত দরিদ্র থাকায়, যারা পায়নি তারা খুবই হতাশা নিয়ে পরিষদে এসে না পাওয়ার অভিযোগও দিচ্ছেন এবং পাওয়ারজন্য জোর আবেদন করছেন। তিনি আরো বলেন ওই ইউনিয়নটি অবহেলিত ইউনিয়ন সেখানে প্রায় ১৪ হাজার মানুষের বসবাস, এর মধ্যে ভোটার সংখ্যা ৯ হাজারেরও বেশী এবং ৯০ ভাগ মানুষ দরিদ্রসীমার নীচে বসবাস করছে। যাতায়াত ব্যাবস্থা অত্যন্ত খারাব, সংশ্লীষ্ট থানা শহরে যেতেও নেই কোনো পাকা সড়ক। বর্ষা মৌষুমে চলাচলে চড়ম ভোগান্তীর স্বীকার হতে হয়। সরকারী যে কোনা ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে কোন প্রকার অনিয়ম নেই। ১২ হাজার ৬শ জন হত দরিদ্রের মধ্যে মাত্র ১৫ শ হত দরিদ্রকে বেসরকারী সংস্থা এন জিও গুড নেইবারস বাংলাদেশ সহায়তা দিচ্ছে। এন জিও কর্তৃক যে কোন ত্রান সামগ্রী বিতরণে অনিয়ম এমন সংবাদ প্রকাশ হলে বিদেশী দাতা সংস্থা সহায়তা দেয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তাই যে কোন ত্রাণ বিতরণের অনিয়ম এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ না করে সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি বিনীত আহ্বান জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ