• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
যুদ্ধের কারণে আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, সার কারখানা স্থাপনেও সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ তোমাদের মধ্যেই দেখি নতুন বাংলাদেশ, নতুন স্বপ্ন’—শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি কলাপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমজীবী নুরুল ইসলাম ফকিরের মৃত্যু কলাপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় পিতা ও পুত্রকে পিটিয়ে আহত ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সমন্বিত কর্মসূচির আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর ফার্মেসিতে নকল ও ভেজাল ওষুধের ঝুঁকি, নজরদারি জোরদারের দাবি আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায়, বদলাতে পারে মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের নাম

বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেশন হাব ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়তে চায় সরকার: মাহ্দী আমিন

রিপোর্টার: / ১৪২ পঠিত
আপডেট: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেশন হাব ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়তে চায় সরকার: মাহ্দী আমিন

সাভার প্রতিনিধি: উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্ভাবন, গবেষণা ও উদ্যোক্তা তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ইনোভেশন হাব, ইনকিউবেশন সেন্টার এবং সমন্বিত স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন শুক্রবার সাভারের ব্র্যাক সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজমেন্টে (ব্র্যাক সিডিএম) ‘উপাচার্যদের সংলাপ: উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী জাতীয় সংলাপের প্রথম দিনে এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।

ড. মাহ্দী আমিন বলেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ ইনোভেশন ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণা শুধু প্রতিযোগিতা বা প্রকল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; সরকারি অনুদান ও অর্থায়নের মাধ্যমে সেগুলোকে সফল স্টার্টআপে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় শিল্পাঞ্চল, হাইটেক পার্ক কিংবা অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যকর সংযোগ এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে গড়ে ওঠেনি। এই বিচ্ছিন্নতা দূর করে শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা, বিশেষ করে লাইসেন্সিং-সংক্রান্ত সমস্যা দূর করতে সরকার নীতিগত সহায়তা দেবে বলেও জানান শিক্ষা উপদেষ্টা। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ তৈরিতেও সরকার সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

গবেষণার বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরে গবেষণা খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে সরকার আশাবাদী। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রবেশাধিকার, আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ড. মাহ্দী আমিন বলেন, ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি ও ফেলোশিপের মাধ্যমে তাদের দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ‘ব্রেইন ড্রেইন’কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তর করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সামার স্কুল চালু, সহজতর ক্রেডিট ট্রান্সফার ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক একাডেমিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, নমনীয় ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করা হবে।

ড. মাহ্দী বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গিয়ে সাফল্য অর্জন করছে। দেশে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও গবেষণার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়েও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, সংলাপে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উচ্চশিক্ষার বর্তমান প্রতিবন্ধকতা ও মানোন্নয়নের করণীয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার কীভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিচ্ছে, সে বিষয়েও তাদের অবহিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে গ্র্যাজুয়েটরা শুধু দক্ষ পেশাজীবী হবেন না, বরং নীতি, আদর্শ ও সামাজিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ সুনাগরিক হিসেবেও গড়ে উঠবেন। পাশাপাশি দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগও নিশ্চিত করা হবে।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক, ইউজিসি চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

দুই দিনব্যাপী এ জাতীয় সংলাপে দেশের প্রায় ৬৫টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, নীতিনির্ধারক, দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ এবং উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ