
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হলেও কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি সহসা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। শীর্ষ জ্বালানি নির্বাহীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং আকাশছোঁয়া বিমা খরচের কারণে জ্বালানি সরবরাহ আগামী কয়েক মাস এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত সীমিত থাকতে পারে।
ব্যাংককে অনুষ্ঠিত গ্যাসটেক কনফারেন্সে শেল-এর সমন্বিত গ্যাসের প্রেসিডেন্ট সেডেরিক ক্রেমার্স বলেন, প্রণালি খুলে দেওয়া এবং জ্বালানি প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়া—এ দুটি ভিন্ন বিষয়। যুদ্ধের আগের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে ফিরে আসবে না বলে মনে করেন তিনি। ইরানি হামলায় কাতারের ১৪টি রফতানি ট্রেনের মধ্যে দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির প্রায় ১৭ শতাংশ এলএনজি উৎপাদন ক্ষমতা স্থবির হয়ে আছে, যা প্রতি বছর ১২৮ মিলিয়ন টন গ্যাসের ঘাটতি তৈরি করেছে। কাতার এনার্জির তথ্যমতে, এই মেরামতের কাজ শেষ করতে তিন থেকে পাঁচ বছর প্রয়োজন। ফলে প্রণালি খুলে দেওয়া হলেও সরবরাহ পুরোপুরি পুনরুজ্জীবিত হওয়া সম্ভব নয়।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের (আইইএফ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে। এর প্রায় পুরোটাই কাতার ও আমিরাতের। যুদ্ধের ঝুঁকি ও বিমা ব্যয় বেশি থাকায় ট্যাংকারগুলো উপসাগরে ফিরতে ধীরগতি দেখাচ্ছে। সেডেরিক ক্রেমার্স জানান, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কাতার ও আমিরাতের প্রায় ৩৬ মিলিয়ন টন সরবরাহ বাজার থেকে অনুপস্থিত রয়েছে। এই ঘাটতির ২০ মিলিয়ন টন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মাধ্যমে পূরণ করা হলেও বাকিটা চাহিদা হ্রাস ও মজুদ থেকে সমন্বয় করা হচ্ছে।
জাপানের জোগমেক ও আইইএফ-এর তথ্যমতে, প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে অতিরিক্ত তরলীকরণ ক্ষমতা হরমুজের সব এলএনজি প্রতিস্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না, যা প্রায় ১০ মিলিয়ন টন গ্যাসের ঘাটতি রেখে গেছে। এই পরিস্থিতি ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা ও এশীয় ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে ভারত তার এলএনজির ৭৫ শতাংশ, পাকিস্তান ৮৭ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ৭১ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়েই আমদানি করেছিল। ফলে এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে আমদানিনির্ভর এই দেশগুলোতে জ্বালানি সংকট আরও প্রকট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর অর্থ হলো, হরমুজ প্রণালি নিরাপদ উপায়ে খুলে দেওয়া হলেও তা কেবল যুদ্ধপূর্ব কাতারের আংশিক সরবরাহের পথই পুনরুজ্জীবিত করতে পারবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সপ্তাহের পর সপ্তাহ বন্ধ থাকবে সৌদির তেল পাইপলাইন, আরও কমবে তেল সরবরাহসপ্তাহের পর সপ্তাহ বন্ধ থাকবে সৌদির তেল পাইপলাইন, আরও কমবে তেল সরবরাহ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেডেরিক ক্রেমার্স জানিয়েছেন, নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হলেও নিয়মিত সামুদ্রিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার করতে সময় লাগবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হরমুজের আকাশে এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানেরহরমুজের আকাশে এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই ব্যাঘাতের ফলে শীতকালের আগে ইউরোপ বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মহাদেশ জুড়ে গ্যাসের মজুদ ঐতিহাসিক কম স্তরে রয়েছে, অন্যদিকে এশীয় ক্রেতারা বিকল্প কার্গোর জন্য প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে।