
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান বলেছেন, চলচ্চিত্র সমাজ ও মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনের এক অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির আয়োজনে ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ উদযাপিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, অতীতে সিনেমাগুলো যে বার্তা দিত, তা কেবল চোখ দিয়ে দেখা হতো না, বরং মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যেত। প্রখ্যাত নির্মাতা আমজাদ হোসেনসহ গুণী পরিচালকদের প্রতিটি কাজের পেছনে ছিল শক্তিশালী সামাজিক ও মানবিক আবেদন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমানের নির্মাতারা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলা চলচ্চিত্রকে আবার কথা বলিয়ে তুলবেন।
মাদকের ভয়াবহ প্রভাব ও সামাজিক বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সময়ের সাথে সমাজের বাস্তবতায় পরিবর্তন এসেছে। এই সংকট মোকাবিলায় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সমাজকে সঠিক পথের দিশা দেখাতে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। সরকার চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক উল্লেখ করে তিনি জানান, সবার সমন্বিত উদ্যোগে বাংলাদেশের সিনেমাকে তার হারানো গৌরবোজ্জ্বল অবস্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার চলচ্চিত্র খাতের স্বকীয়তা ও গৌরব পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, আমরা সম্ভবত শেষ প্রজন্ম যারা বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগ দেখেছি। বর্তমান সংকট কাটাতে ও আধুনিক অবকাঠামো তৈরিতে সরকার অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করবে। অন্যদিকে, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে পুনরুজ্জীবিত করতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। এফডিসিকেন্দ্রিক উন্নয়নের বাইরে গিয়ে পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে উন্নত করার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।
অনুষ্ঠানে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ছোটবেলায় প্রতিদিন এফডিসিতে রেকর্ডিংয়ের সময় কাটাতেন। চলচ্চিত্র পরিচালকদের মাধ্যমেই তিনি সাবিনা ইয়াসমিন হিসেবে গড়ে উঠেছেন। অনুষ্ঠানে সাবিনা ইয়াসমিন এবং বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়াও চলচ্চিত্র শিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), এ জে মিন্টু, কাজী হায়াৎ, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, ড. মতিন রহমান ও মশিউদ্দীন শাকেরকে সম্মানিত করা হয়।
সমাপনী আয়োজনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহিন সুমন। এ সময় সমিতির মহাসচিব শাহিন কবির টুটুল, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি সহ দেশের বরেণ্য পরিচালক, প্রযোজক, অভিনয়শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি তথ্য মন্ত্রণালয় ও চলচ্চিত্র জগতের পারস্পরিক সহযোগিতার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিটি সিনেমায় নিজস্ব চরিত্র ও স্পষ্ট বার্তা থাকা উচিত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সবাই মিলে আগামীতে এমন কাজ করতে, যাতে আমাদের চলচ্চিত্রগুলো আবার কথা বলে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বর্তমানে বহু তরুণ মাদকের ভয়াবহতায় জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজের জন্য বিশাল ক্ষতি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর পাশাপাশি সমাজে নানাবিধ বৈষম্য রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চলচ্চিত্র অঙ্গনের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিএফডিসির উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখান থেকে হাজার হাজার কালজয়ী গান সৃষ্টি হয়েছে।