• শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ন

আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

রিপোর্টার: / ০ পঠিত
আপডেট: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশের বাজারে দীর্ঘ সময়ের উচ্চ মূল্যস্ফীতির পর স্বস্তির আভাস মিলেছে। টানা তৃতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতি কমে আগস্ট মাসে তা ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, এটি গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মূল্যস্ফীতির হার। মে মাসে এই হার ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে উঠেছিল, সেখান থেকে তিন মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি ১ দশমিক ১৬ শতাংশীয় পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে। জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ, যা আগস্টে শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

মূল্যস্ফীতি হ্রাসে প্রধান ভূমিকা রাখছে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার গতি কমে আসা। আগস্ট মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা জুলাই মাসে ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত বছরের আগস্ট মাসে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। সামগ্রিক বিচারে গ্রাম ও শহর উভয় ক্ষেত্রেই মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমেছে। গ্রামে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩১ শতাংশে এবং শহরে ৮ দশমিক ২০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা জুলাই মাসে যথাক্রমে ৮ দশমিক ৩৬ ও ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ ছিল।

২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের নভেম্বরে এটি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। এরপর ডিসেম্বরে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছায়। ফেব্রুয়ারি মাসে তা বেড়ে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে এবং মে মাসে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে উন্নীত হয়। জুনে কিছুটা কমে তা ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নামে, যা ধারাবাহিকভাবে জুলাই ও আগস্টে নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে।

বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সরকারের নীতিগত বিভিন্ন পদক্ষেপ মূল্যচাপ প্রশমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে উৎসে কর কমানো হয়েছে। এছাড়া টিসিবির কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ভর্তুকি ছাড়া আমদানিকৃত নিত্যপণ্য বিক্রির নতুন উদ্যোগও নিচ্ছে টিসিবি, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আগস্টের ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি সেই লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি ইতিবাচক संकेत। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ পণ্যের দাম পুরোপুরি কমে যাওয়া নয়, বরং দাম বাড়ার গতি কমে আসা। এই নিম্নমুখী ধারা দীর্ঘস্থায়ী করতে এবং খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত খাতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরও কমাতে বর্তমান উদ্যোগগুলো অব্যাহত রাখা জরুরি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও ৭ শতাংশের ঘরে নেমে আসায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্যচাপ কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্চে কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ হলেও এপ্রিলে আবার বেড়ে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং মে মাসে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে ওঠে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই সাম্প্রতিক নিম্নমুখী প্রবণতা ধরে রেখে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতে মূল্যচাপ আরও কমানোই এখন গুরুত্বপূর্ণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ