
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক প্রবাসীর বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতি ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এলাকার চিহ্নিত বখাটে ও মাদকাসক্ত শরীফ (২৩), আরিফ (২১), ফাহিম (২২), রাজিব (২৩) ও এনামুল (২২) এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা সবাই তাহের উদ্দিন, মমিন, মোফাজ্জল ও নূরুলের সন্তান।
ঘটনার দিন রাতে অভিযুক্তরা নির্মাণাধীন ওই প্রবাসীর বাড়িতে গিয়ে ছেলের কাছে পানি চায়। প্রবাসীর ১৪ বছর বয়সী ছেলে পানি নিয়ে দরজার কাছে এলে তারা তাকে ধরে বাড়ির দরজার সামনে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে। এরপর অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে জিম্মি করে আলমারি ভেঙে নগদ ৫ লাখ টাকা এবং প্রায় দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার লুট করে। এ সময় গৃহবধূর গলার হার ও কানের দুলসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার মূল্যবান মালামাল খোয়া যায়।
লুটের পর ডাকাত দল ছেলের সামনেই তার মাকে নির্যাতন চালায়। ঘটনার সময় অভিযুক্ত রাজিব এই পুরো বিষয়টি ভিডিও ধারণ করে। এছাড়া তারা ভুক্তভোগী মা ও ছেলেকে হুমকি দেয় যে, আগামী তিন দিনের মধ্যে আরও দুই লাখ টাকা চাঁদা না দিলে এবং ঘটনা প্রকাশ করলে এই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনার পর শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে চর কালিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতিতে চারজন পালিয়ে গেলেও রাজিবকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযুক্তের ফেলে দেওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান সেখ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডাকাতি শেষে ডাকাতদল প্রবাসীর ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে রেখে ছেলের সামনেই তার মাকে (৩২)সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারই করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ঘটনায় থানা পুলিশ এক জনকে আটক করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডাকাতদল চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের চিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসে এবং গফরগাঁও থানা পুলিশকে খবর দেয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে শুক্রবার তিনটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দুরে চর কালীবাড়ি গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে অভিযুক্তদের ঘেরাও করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিযুক্ত ৪ জন পালিয়ে গেলেও রাজিবকে পুলিশ আটক করে।