
ছয় দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠিয়েছে ইরান। তবে এই উদ্যোগের পেছনে বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান। এর মধ্যে অন্যতম হলো ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা। পাশাপাশি জব্দকৃত ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালিতে একটি সাময়িক নৌপথ চালুর বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। চীন এই প্রস্তাবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। তেহরান বর্তমানে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থায় এর বিস্তারিত নথিভুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসতে আগ্রহী ইরান। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল করতে ট্রাম্পের জন্য এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ইরানি কূটনৈতিক মহল। উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৭ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসরাইল। লেবাননে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র আদৌ ইসরাইলকে বাধ্য করতে পারবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়েও ইসরাইলের প্রবল আপত্তি রয়েছে। অন্যদিকে, নিউইয়র্কে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আব্বাস আরাঘচি। গত জুলাইয়ে যুক্তরাজ্য ইরানের বিপ্লবী গার্ড করপসকে (আইআরজিসি) নিষিদ্ধ করার পর এই প্রথম দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। এদিকে আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ কমান্ডার মেজর জেনারেল রহিম সাফাভি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে কোনো যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়, তবে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে বড় সংঘাতের মুখোমুখি হতে হবে তাদের।