
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে এক কারাবন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গিয়ে চরম ব্যর্থতার মুখে পড়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনার রেশ ধরে অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগের প্রধান ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডা নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) টেনেসি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বিল লি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডা চলতি মাসেই তার দায়িত্বভার হস্তান্তর করবেন। আমরা আশা করি, পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্ত টেনেসির মৃত্যুদণ্ড-ব্যবস্থার গভীর সমস্যাগুলোকে উন্মোচন করবে।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর)। সেদিন সকালে ক্রিস্টা পাইক নামের এক নারী বন্দির মৃত্যুদণ্ড প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময় সকাল ১০টায় প্রক্রিয়াটি শুরু হলেও তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। কারাপ্রধান স্ট্রাডার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্রিস্টাকে দুই ডোজ ইনজেকশন দেওয়ার পরও তিনি বেঁচে যান। এটি কার্যকর হলে গত ২০০ বছরের ইতিহাসে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া প্রথম নারী হতেন তিনি। বর্তমানে তিনি অসংজ্ঞায়িত অবস্থায় ভেন্টিলেটরের সহায়তায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। তাকে দুই দফা পেন্টোবারবিটাল দেওয়া হলেও তিনি মারা যাননি। এ পরিস্থিতিতে টেনেসিবাসীর স্বার্থে তিনি পদত্যাগ করছেন। তবে তারা বলছেন, এ পদত্যাগ ক্রিস্টার জন্য কোনো উপকারে আসবে না। আইনি নথিপত্র অনুযায়ী, ক্রিস্টাকে টেনেসির ন্যাশভিলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ক্রিস্টার আইনজীবীরা কারাপ্রধানের এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি, বুধবারের এই ঘটনা পুরো প্রক্রিয়ার পদ্ধতিগত ব্যর্থতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় ক্রিস্টাকে কাঁদতে এবং জোরে শ্বাস নিতে শোনা যাচ্ছিল, যা পুরো পরিবেশকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর করে তুলেছিল। কারা বিভাগের এই ব্যর্থতা এবং পরবর্তী পদত্যাগের ঘোষণা এখন স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পরে আইনজীবীরা তার সাজা কমানোর আবেদন করেছেন।