• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় গিয়ে ২৬ বছর বয়সী যুবকের শরীরে মিলল জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউব সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ: বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকারের ঝুঁকি দেখছে সংস্থাটি এক ভিসায় ঘুরে দেখা যাবে ছয় দেশ: আসছে জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে সরকার সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দুবাই বিমানবন্দর: আশাবাদী প্রধান নির্বাহী পল গ্রিফিথস সিএমএইচে চিকিৎসাধীন আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর লালবাগে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর সন্ধানে ভবনের মেঝে খুঁড়ে উদ্ধার অভিযান রাশিয়ায় ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারালেন ময়মনসিংহের আল মামুন গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও গ্রেপ্তার সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া

সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ: বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকারের ঝুঁকি দেখছে সংস্থাটি

রিপোর্টার: / ৮ পঠিত
আপডেট: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর খসড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, প্রস্তাবিত এই আইনের বেশ কিছু বিধান জনগণের মৌলিক মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ, অংশীজনদের মতামত এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে খসড়াটি নতুন করে সাজানোর আহ্বান জানিয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই খসড়ায় সাইবার অপরাধ, সাইবার সুরক্ষা এবং মতপ্রকাশের অধিকার—এই তিনটি জটিল বিষয়কে একটি আইনের আওতায় আনা হয়েছে, যা কোনোটির ক্ষেত্রেই যথাযথ গুরুত্ব বহন করে না। বরং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের পথ প্রশস্ত করতে পারে। সাইবার অপরাধের মতো বিশেষায়িত বিষয়ের সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো গুলিয়ে ফেলা হয়েছে, যা বৈশ্বিক চর্চার পরিপন্থী।

খসড়া আইনটিতে গুজব, অপতথ্য, মানহানিকর বা রাষ্ট্রের জন্য অবমাননাকর শব্দগুলোকে অস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে টিআইবি। ড. ইফতেখারুজ্জামানের মতে, এর ফলে ইচ্ছাকৃত অপব্যাখ্যার মাধ্যমে বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ‘যৌনহয়রানি’ ও ‘সেক্সটর্শন’-এর মতো বিষয়গুলোর অসম্পূর্ণ সংজ্ঞায়ন প্রকৃত অপরাধীদের সুরক্ষা দিতে পারে। বিশেষ করে ধারা-৪৬(২)-এর অধীনে ধারা-২৩-এর অ-জামিনযোগ্য অপরাধের ব্যাখ্যাগুলো অস্পষ্ট, যা ক্ষমতাসীনদের মর্জিমাফিক ব্যবহারের মাধ্যমে ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হতে পারে।

প্রস্তাবিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি। ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, প্রধানমন্ত্রীসহ ২৮ সদস্যের এই কাউন্সিলে বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞ হিসেবে মাত্র দুজনকে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে, যারা আবার সরকার কর্তৃক মনোনীত। এতে কাউন্সিলটি সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে না। তাই সরকারের প্রভাবমুক্ত ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কাউন্সিল পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

আইনের অধীনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কাউন্সিল সদস্যদের ‘সরল বিশ্বাসে’ কৃত কর্মকাণ্ডের জন্য ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা থেকে দায়মুক্তি দেওয়ার বিধানকে আইনের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অভিহিত করেছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, এই আইন বর্তমান অবস্থায় পাস হলে বাংলাদেশের সাইবার স্পেস জবাবদিহিহীন ও নিপীড়নমূলক হয়ে উঠবে।

বিবৃতিতে টিআইবি আরও স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সকল নাগরিকের সাইবার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই অঙ্গীকারের আলোকে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে খসড়া আইনটি প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে ঢেলে সাজানোর জোর দাবি জানিয়েছে টিআইবি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাছাড়া ধারা-৪৬(২) এ অ-জামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে ধারা-২৩ এর উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষাসহ বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্র বা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ ২৮ সদস্যের সমন্বয়ে সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, সেখানে বেসরকারি পর্যায়ের তথ্যপ্রযুক্তি বা মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে মাত্র দুইজনের অন্তর্ভুক্তির কথা বলা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যমূলক অপব্যাখ্যান ও অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাইবার অপরাধের সঙ্গে সাইবার সুরক্ষার মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রকে একাকার করে ফেলার পাশাপাশি সাইবার জগতে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণমূলক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অধিকন্তু, ‘যৌনহয়রানি’ ও ‘সেক্সটর্শন’ ইত্যাদি শব্দবন্ধকে এমন অপেশাদার ও অসম্পূর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যা প্রকৃত অপরাধকে আড়াল করে অভিযুক্তের সুরক্ষা আর ভুক্তভোগীর অধিকার হরণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার ঘাটতি ও প্রায়োগিক প্রভাব অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষমতাসীনদের মর্জিমাফিক হওয়ার কারণে অপব্যবহারের মাধ্যমে ভিন্নমত ও বাকস্বাধীনতাকে ব্যা পক হুমকির মুখে ফেলবে বলে মন্তব্য করেন ড।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ