• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সাত মাসে বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত হয়েছে: মাহদী আমিন ইমিগ্রেশন ছাড়াই দিল্লি থেকে লাপাত্তা ৩ বিদেশি সরকারি সফরে জাপানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ইয়েমেনে সংঘাতের জেরে বাস্তুচ্যুত লক্ষাধিক মানুষ ইসরায়েলে ৪০ হাজার শক্তিশালী বোমা পাঠানোর পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের বোর্ডিং পাস দিয়েও শিশুকে বাধা, কাতার এয়ারওয়েজকে বড় জরিমানা গুলশানের আ.লীগের মিছিল নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি জাতীয় গ্রিডে বৃদ্ধি পেল গ্যাসের সরবরাহ সৌদির প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান স্টেডিয়ামের কাজ পেল কাতারি

ইসরায়েলে ৪০ হাজার শক্তিশালী বোমা পাঠানোর পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

রিপোর্টার: / ৫ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গাজায় সামরিক অভিযান চলমান থাকার মধ্যেই ইসরায়েলের কাছে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের ৪০ হাজার বোমা বিক্রির পরিকল্পনা করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এনডিটিভি ও ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের এই অস্ত্র প্যাকেজে ২০ হাজার এমকে-৮৪ এবং ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ বোমা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি এই চালানে ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর ওয়ারহেডও থাকছে। এমকে-৮৪ বোমাগুলো পশ্চিমা সামরিক সম্ভারের অন্যতম ধ্বংসাত্মক অস্ত্র হিসেবে পরিচিত, যা কংক্রিট বা ধাতু ভেদ করে বিশাল এলাকা জুড়ে ধাতব টুকরো ছড়িয়ে দিতে সক্ষম।

গাজায় ব্যাপক প্রাণহানির ঝুঁকির কারণে দুই বছর আগে জো বাইডেনের প্রশাসন এসব বোমার সরবরাহ স্থগিত করেছিল। তবে ডনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিলেন। উল্লেখ্য, এই প্যাকেজের বেশির ভাগ অর্থ ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং কর্মসূচির আওতায় মার্কিন করদাতাদের টাকায় সংস্থান করা হচ্ছে। এটি ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া ধারাবাহি পদক্ষেপের অংশ। এর আগে গত বছরও প্রশাসন প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল, যার মধ্যে ৩৫ হাজার ৫০০টির বেশি বোমা ছিল। এছাড়াও জানুয়ারিতে ৬ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারের আরও নতুন কিছু অস্ত্র বিক্রির ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

এই অস্ত্র বিক্রির উদ্যোগটি এমন সময় নেওয়া হলো যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে বিচ্ছিন্নতার মুখে রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের নতুন সমীকরণকেও সামনে আনছে। যদিও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে খুব কম তথ্যই প্রকাশ করে, তবে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত ধ্বংসাবশেষ ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মার্কিন তৈরি এসব বোমার ব্যবহারই সেখানে উচ্চহারে বেসামরিক প্রাণহানির প্রধান কারণ।

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, চলমান সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একটি মার্কিন তদন্ত প্রতিবেদনে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইসরায়েল এই অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের মৃত্যু এবং ২৫০ জনের বেশি জিম্মি হওয়ার ঘটনায় নিজেদের আত্মরক্ষার অধিকার থেকে তারা এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে। গত মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক আলোচক জ্যারেড কুশনার নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং যুদ্ধের তীব্রতা কমানোর আহ্বান জানান। বর্তমানে গাজায় বড় ধরনের লড়াইয়ের মাত্রা কিছুটা কমে এলেও ইসরায়েলের হামলা ও সামরিক তৎপরতা এখনো থেমে নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গাজায় গণহত্যা, ফিলিস্তিনকে দখল করে নেয়ার পরিকল্পনা, ফিলিস্তিনিদের যখন তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরাইল, তখন তাদের কাছে ২০০০ পাউন্ড ওজনের বোমা বিক্রির পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ পরিকল্পনায় এমন ৪০,০০০ বোমা বিক্রি করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিতর্কিত এই ধরনের বোমার এটিই হবে সবচেয়ে বড় একক বিক্রি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্যাকেজটি বিক্রির খবর প্রথম প্রকাশ করে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বোমাটি এতটাই শক্তিশালী যে এটি প্রায়ই মাটিতে বড় গর্ত বা গর্তের মতো খাদ তৈরি করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গাজার পাশাপাশি লেবাননেও ইসরাইল নিয়মিত এই ২ হাজার পাউন্ডের বোমা ব্যবহার করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ