
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি অবিলম্বে এই মামলা প্রত্যাহার এবং রিমান্ডের আদেশ বাতিল করে তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আখতারুজ্জামানকে সাজানো মামলায় গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে দলটির নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগে তারা এসব কথা বলেননি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিয়ে সারা দেশের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। প্রায় ৩৪ জন সংসদ সদস্যসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি অবতরণের পর দীর্ঘ তিন থেকে চার ঘণ্টা ট্রলি, লাগেজ ও জমজমের পানি না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হন। তিনি বলেন, একজন ভিআইপি যাত্রী হিসেবে কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করা আখতারুজ্জামানের নাগরিক অধিকারের অংশ। মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে গায়ে হাত তোলা বা নাজেহালের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সেখানে উপস্থিত জামায়াতের এমপি কামাল হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে আখতারুজ্জামান কাউকে লাঞ্ছিত করেননি, যা ভিডিও ফুটেজেও দৃশ্যমান। কর্তৃপক্ষ নিজেরাই দুজনকে বরখাস্ত করে বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে, অথচ সেই সত্য তুলে ধরাই এখন তার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
আখতারুজ্জামানকে হেলমেট পরিয়ে আদালতে হাজির করার বিষয়টি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী দুর্ধর্ষ অপরাধী, খুনি বা ডাকাতদের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা নেওয়ার নিয়ম থাকলেও, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যিনি নিজে স্বেচ্ছায় পুলিশের সঙ্গে গিয়েছেন, তাকে কেন হেলমেট পরানো হলো? তিনি অভিযোগ করেন, আসল অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করে একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এই গ্রেফতারের পেছনে বিমানবন্দরের ঘটনার বাইরেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি সাহসের সঙ্গে নিজের বাসা থেকে স্বেচ্ছায় পুলিশের সঙ্গে গেছেন।
প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের জামায়াত-শিবির নিয়ে মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বা ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া খুবই দুর্ভাগ্যজনক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দীর্ঘ ২০-২২ বছর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী চারদলীয় জোটে একসঙ্গে আন্দোলন করেছে, তখন এই প্রশ্ন ওঠেনি। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন তার মা ছিলেন, তখন তিনি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবিতে কথা বলেছেন। এছাড়া তৎকালীন বিএনপির মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতিও মাওলানা নিজামীর প্রশংসা করেছেন। তাহলে এখন কেন ভিন্ন সুরে কথা বলা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন রাখেন তিনি। জামায়াত-শিবিরকে ‘গুপ্ত’ বলা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির মুখে এ ধরনের বক্তব্য কতটা মানানসই।
পরিশেষে তিনি বলেন, জাতিকে বিভক্ত করে ক্ষমতায় থাকার যে কোনো চেষ্টা ব্যর্থ হবে এবং জনগণ এর উপযুক্ত জবাব দেবে। জামায়াতে ইসলামী দেশের স্বার্থে রাজনীতি চালিয়ে যাবে এবং জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ডকে তারা সহ্য করবে না।