• সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
১২ মার্চ শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা, স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অধিবেশনে,,, সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল, গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নিয়োগ,,,, মহিপুরে কেয়ার মডেল হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুর, আতঙ্কে রোগী ও কর্মীরা,,, কলাপাড়ায় রুফটপ সোলারকে জাতীয় অগ্রাধিকার ঘোষণার আহ্বান নাগরিক সমাজের,,, সিক্স লাইন সড়কে অটোরিকশা–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৪,,, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় জোর, সাংবাদিক কল্যাণে নানা পদক্ষেপের আশ্বাস তথ্যমন্ত্রীর,, ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ে রায়েরবাজারে সমাহিত ৮ অজ্ঞাত শহীদের পরিচয় শনাক্ত,, একুশের ভিড়ে সক্রিয় ছিনতাইকারী: শহীদ মিনার এলাকায় ১২ মোবাইল চুরির অভিযোগ,, শহীদ মিনারে প্রথমবার দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ,,, একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা,,,,

বাউফলে সারের তীব্র সংকটের আশংকা, কৃষকদের ধারণা প্রতিবছরের মতো ডিলাররা কৃত্রিম সংকট দেখাতে পারে/দৈনিক ক্রাইম বাংলা।।

রিপোর্টার: / ১২১ পঠিত
আপডেট: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

এম জাফরান হারুন::

পটুয়াখালীর বাউফলে রবিশষ্য ও তরমুজ মৌসুমে তীব্র সার সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন ডিলার ও কৃষকরা। আসন্ন ওই সার সংকটের কথা মাথায় রেখে বিশেষ করে তরমুজ চাষিরা বিভিন্ন পথে পরিমাণে কম হলেও অতিরিক্ত দাম দিয়ে সার সংগ্রহ করছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছেন। সার সংকটে তরমুজ উৎপাদন ব্যহত হতে পারে এবং খরচও অনেকটা বেড়ে যেতে পারে।

এদিকে ডিলাররা চাহিদা মোতাবেক ও সময় মতো সার পাচ্ছেন না বলে জানান। সরকার থেকে ন্যয্যমূল্যে যথা সময়ে সার পাওয়ার জন্য কৃষকরা আন্দোলনের পথ বেছে নিতে পারেন বলেও হুমকি দিচ্ছেন।

সরেজমিনে তরমুজ চাষিদের মাঠে গিয়ে জানা গেছে, বাউফলের সার ডিলারদের থেকে সময় অনুযায়ী পরিমাণ মতো সার পাচ্ছেন না। অপরদিকে ডিলারাও যথা সময়ে সার পাচ্ছেন না। ফলে প্রয়োজনের সময় সারের একটি কৃত্রিম সংকটের আশংকা থেকেই যায়। বরং কিছু অবৈধ ডিলাররা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সার মজুদ করে চড়া দামে বিক্রি করছেন কৃষকদের কাছে। এতে যেন মাথা ব্যাথা নেই কর্তৃপক্ষের। কৃষকরা ধারণা করছেন- হয়তো ওইসব ডিলারদের কাছ থেকে কর্তৃপক্ষ কোনো মোটা অংকের ফায়দা লুটছেন!

উপজেলা ফার্টিলাইজার এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডিলার মাসুদ রানা জানান, চাহিদাপত্র দিলেও সময় মতো চাহিদা মোতাবেক সার সরবরাহ হচ্ছেনা। ফলে কৃষকদের সাথে মনোমালিন্য ঘটেই থাকে। এরথেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় সরবরাহ ঠিক রাখা।

একটি সূত্র জানায়, সারের চাহিদা যখন বেড়ে যায় তখন যে সকল এলাকায় সারের ব্যবহার কম কিন্তু বরাদ্দের সার রয়েছে সেখান থেকে গোপনে বেশি দামে সার ক্রয় করতে কৃষকরা বাধ্য হন। তখনই সারের সংকট বলে চারদিকে কথা ছড়িয়ে পড়ে। আবার খুচরা বিক্রেতারাও কিছু বেশি দামেও সার বিক্রি করছেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, বেশি দামে কিনে এনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

উপজেলার চরকালাইয়া এলাকার তরমুজ চাষি আনোয়ার হোসেন জানান, লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে তরমুজ চাষ করছি। বাউফলে তরমুজ চাষে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়। প্রায় ৩০ হাজার মৌসুমী শ্রমিক তরমুজ ক্ষেতে কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। ক্ষেতে এখন বীজ অঙ্কুরোদগম হয়ে গেছে। এখন প্রতিদিনই সারের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু সরকার এই বিষয়ে তেমন নজর দিচ্ছেন না। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে সময় মতো সার না পেলে বাধ্য হয়ে আমরা আন্দোলন করতে রাস্তায় নামবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন জানান, বাউফলে ৩৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজসহ রবিশষ্য চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হবে। এজন্য সবমিলিয়ে ইউরিয়া ৩ হাজার ৬৬৬ মেট্রিক টন, টিএসপি ২ হাজার ৭৬ মেট্রিক টন, ড্যাপ ২ হাজার ১৯৬ মেট্রিক টন এবং এমএপি ২ হাজার ৩৮০ মেট্রিক টন সারের চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে। যাহা অন্যান্য সময়ের চেয়ে কিছু বেশি।

তিনি বলেন, কিছু সার মাছের ঘের, মুড়ি ভাজাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। যাহা অজানা এবং হিসেবের বাহিরে রয়ে যায়। আবার কিছু চাষি এককালিন বেশি সার ক্রয় করে মজুদ করেন। এছাড়া সরকারিভাবে ফসলে নির্ধারিত পরিমাণ সার না দিয়ে কৃষকের ইচ্ছা মোতাবেক বেশি সার ব্যবহার করেন। এমতাবস্থায়, সবমিলিয়ে একটা পর্যায়ে কিছু সময়ের জন্য সার সংকট দেখা দেয়। তবে চাহিদা মোতাবেক সরবারাহ ঠিক থাকলে কোন সংকট হবে না। আমাদের ১৬ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাঠে রয়েছেন। তারা সার্বিক বিষয় মনিটরিং করে দেখছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ