• শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১১ অপরাহ্ন

কৃষিতে স্মার্ট রূপান্তর: ‘কৃষক কার্ড’সহ বহুমুখী মহাপরিকল্পনার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

রিপোর্টার: / ১১১ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

কৃষিতে স্মার্ট রূপান্তর: ‘কৃষক কার্ড’সহ বহুমুখী মহাপরিকল্পনার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা: কৃষি খাতকে আধুনিক, টেকসই ও লাভজনক করতে ‘স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে চালু হয়েছে ‘কৃষক কার্ড’, যার মাধ্যমে সরাসরি ১০ ধরনের সেবা পাবেন দেশের কৃষকরা।

বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান। টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাদি জমি হ্রাস ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে গত ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্পমূল্যে কৃষিযন্ত্র, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বীমা, পণ্য বিপণন সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্যসহ নানা সুবিধা পাবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এ কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষিকে টেকসই ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে উন্নত বীজ সরবরাহ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষিযান্ত্রিকীকরণ জোরদারে ভর্তুকির মাধ্যমে ট্রাক্টর, হারভেস্টারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করা হচ্ছে।

জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অঞ্চলভিত্তিক উপযোগী ফসল চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পতিত জমি চাষের আওতায় আনা, বিশেষ করে সিলেট ও চরাঞ্চলে কৃষি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ধাননির্ভরতা কমিয়ে ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ফুল চাষে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। কৃষকদের জন্য স্বল্পসুদের ঋণ, ফসল বীমা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুনর্বাসন সহায়তাও বাড়ানো হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসনে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়ে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বীজ ও উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। এতে উপকৃত হয়েছেন ২৫ লাখের বেশি কৃষক।

কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও রপ্তানি বাড়াতে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ, মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণ প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

গবেষণা ও উদ্ভাবনেও জোর দিচ্ছে সরকার। বারি, ব্রি ও বিনার মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল ফসল উদ্ভাবনের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কম পানি, কম সার ও কম কীটনাশক ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ