
দেশের স্বার্থে মতভেদ নয়, ঐক্য: বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা: দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় বিরোধী দলের সঙ্গে যেকোনো সময় আলোচনায় বসতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রস্তুত।
বুধবার রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৯তম দিনে বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমানের উত্থাপিত ‘দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই সংসদে আমরা প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল একটি জায়গায় উপনীত হয়েছি—দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে আমাদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই।” তিনি বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জ্বালানি ইস্যুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় সমগ্র বিশ্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি সময় পার করছি, যেখানে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রত্যেকটি দেশ ও জনগণের ওপর প্রভাব ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের স্বার্থে যেকোনো গঠনমূলক প্রস্তাব সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে। “কেউ যদি কোনো প্রস্তাব দেন, আলোচনা করতে চান বা পরামর্শ দেন—আমরা যে অবস্থানেই থাকি না কেন, তা গ্রহণ করে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত আছি,” বলেন তিনি।
সংসদ নেতা হিসেবে বিরোধী দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবতার নিরিখে যাচাই করে যেগুলো বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো কার্যকর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ আমাদের এখানে পাঠিয়েছে তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য। তাই যে সিদ্ধান্তে জনগণের কল্যাণ হবে, আমরা সেই পথেই এগোবো।”
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল তিনটায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। এদিনের আলোচনায় জ্বালানি সংকটসহ জনদুর্ভোগ লাঘবে সরকারের করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা।