
সংবেদনশীল রাজনীতিতে বাধা সহ্য করা হবে না: চট্টগ্রামে আমির খসরুর কঠোর বার্তা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে সংবেদনশীল ও সহনশীল রাজনীতির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, “এই রাজনীতির পথে যারা বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আইন নিজের গতিতেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।”
শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি সরস্বতী জ্ঞান মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, সমাজে কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষ থাকে, যারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করে না, বরং অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করে।
অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, বিএনপি সরকার অতীতে সবসময় আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও তা নিশ্চিত করা হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং ব্যাংকিং খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, “প্রায় ২৩০ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে বের হয়ে গেছে। ব্যাংকগুলো লুটপাটের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় সময়ে নিজেদের জমা টাকা তুলতে পারছেন না—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।” এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দেশে লোডশেডিং সংকট পুরোপুরি কাটেনি। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারও সীমিত পরিসরে মূল্য সমন্বয় করেছে। “অন্যান্য দেশে যেখানে জ্বালানির দাম দ্বিগুণ হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশে ১০-১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে,”—যোগ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা থাকলেও দেশ পরিচালনা ও অর্থনীতিকে সচল রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কৃচ্ছ্রসাধনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, শিল্পকারখানা চালু থাকে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত না হয়—সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।