
নিজস্ব প্রতিবেদক:
তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ পানি সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রাজধানীবাসী। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি মিলছে না, কোথাও আবার সামান্য পানির জন্য রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন ক্ষুব্ধ মানুষ। লোডশেডিং, জ্বালানি সংকট, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং উৎপাদন ব্যবস্থার দুর্বলতায় ঢাকা ওয়াসার পানি সরবরাহে বহুমুখী বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
ঢাকা ওয়াসা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রীষ্ম মৌসুমে রাজধানীতে প্রতিদিন পানির চাহিদা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২৫ কোটি লিটারে। অথচ বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ২৮০ কোটি লিটার। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি লিটার পানির ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছে রাজধানীর মিরপুর, নুরপুর, পলাশপুর, দক্ষিণ দনিয়া, শহীদনগর, রায়েরবাজার, কলাবাগান, পূর্ব ও মধ্য মনিপুর, পীরেরবাগ, শাহজাদপুর, কালাচাঁদপুর, আফতাব নগর, ভাটারা, বনশ্রী, উত্তরা, কড়াইল বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকা। এসব এলাকায় অনেক বাসিন্দাকে গভীর রাতে পানি সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে।
সূত্র মতে, রাজধানীর প্রায় আড়াই কোটি মানুষের পানি সরবরাহের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার ওপর থাকলেও সংস্থাটির প্রায় ৭০ শতাংশ পানি এখনো ভূগর্ভস্থ উৎসনির্ভর। যদিও হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একাধিক পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হয়েছে, তবুও সেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না।
বর্তমানে সাভারের ভাকুর্তা পানি শোধনাগারে প্রতিদিন ১৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ কোটি লিটার। একইভাবে পদ্মা-জশলদিয়া পানি শোধনাগারের লক্ষ্যমাত্রা দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার হলেও পাইপলাইন ও সরবরাহ অবকাঠামো পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়ায় বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ কোটি লিটার।
এছাড়া ঢাকা ওয়াসা-র এক হাজার ৩৩১টি গভীর নলকূপের মধ্যে প্রায় ২০০টি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে সচল নলকূপগুলোর উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকট মোকাবিলায় পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো জরুরি। প্রকল্পটির সক্ষমতা দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার হলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অর্ধেকেরও কম পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে। সময়মতো পাইপলাইন স্থাপন ও বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব।
এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “সাধারণ সময়ে ঢাকায় প্রায় ২৯০ কোটি লিটার পানির চাহিদা থাকে। কিন্তু গ্রীষ্মে তা বেড়ে ৩২৫ কোটি লিটারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, পাম্প বিকল হওয়া এবং বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে উৎপাদন কমে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে উৎপাদন সক্ষমতা ২৮০ কোটি লিটারে নেমে এসেছে। তবে ঢাকা ওয়াসা নিরলসভাবে সংকট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে।”
রাজধানীবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হলেও বাস্তবে পানি সংকটের স্থায়ী সমাধান মিলছে না। তীব্র গরমে পানির জন্য এমন দুর্ভোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।