• মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমানের দিল্লি সফরকালে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা নিরাপত্তার জন্য কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা যথেষ্ট নয়: কাতার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত সরকারের নীতিকেই দায়ী করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পণ্য পাচারে সহযোগিতার অভিযোগ: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মঈনউদ্দীন লোটাস বদলি সৌর বিদ্যুৎ যন্ত্রাংশ আমদানিতে ৬ মাসের কর ছাড়সহ মন্ত্রিসভায় তিন প্রস্তাব অনুমোদন ফেডারেল অর্থায়ন হারানোর ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যগুলো: নতুন আইনি ব্যাখ্যায় উদ্বেগ নিউইয়র্ক স্টেট সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে শত শত পদে চাকরির সুযোগ জ্বালানি সংকট সমাধানে সংসদে বিরোধী দলের ৪ প্রস্তাব ও সরকারের পরিকল্পনা বিএনপি কার্যালয়ের কাছে পরপর বিস্ফোরণ, গাংনীতে আতঙ্ক সংঘাত নয়, সমঝোতার রাজনীতিতে দেশ এগিয়ে নিতে হবে

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত সরকারের নীতিকেই দায়ী করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রিপোর্টার: / ৪ পঠিত
আপডেট: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ও অদূরদর্শিতাকে দায়ী করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধির আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকার তাদের অনুগত ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বিদেশনির্ভর জ্বালানি নীতি গ্রহণ করেছিল, যা দেশের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থেকে উত্তরণে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক পরিসরে গালফ ওয়ারের মতো পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কৃষকদের বোরো মৌসুমের সেচ কাজ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে গত ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। পরবর্তীতে সীমান্ত দিয়ে পাচার রোধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়। সরকার সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি করের বোঝা না চাপিয়ে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখার চেষ্টা করছে।

জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সমুদ্রে ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চীন সরকারের সঙ্গে ‘জি টু জি’ চুক্তির আওতায় মাতারবাড়িতে তৃতীয় এফএসআরইউ ১৮ মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে একটি ল্যান্ড বেজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার জন্য শত কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপনের আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অভ্যন্তরীণ সম্পদের ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বড়পুকুরিয়ার দেশীয় কয়লা ব্যবহার করে ৬০০ মেগাওয়াটের নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া পায়রা দ্বিতীয় পর্যায়ের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ দ্রুত শুরু করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। গ্রিড লাইনের ঘাটতি থাকলে সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়নের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করবে।

জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা অনশোর ও অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ভোলায় গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সেখানে ফার্টিলাইজার ইন্ডাস্ট্রি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া মাতারবাড়িতে এলপিজি টার্মিনাল ও স্টোরেজ অবকাঠামো নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রের বৈরী আবহাওয়ায় গ্যাস খালাসের জন্য ভাসমান সিবিএস প্রযুক্তির টার্মিনাল স্থাপনের আলোচনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বিরোধী দলের উত্থাপিত সময়সীমার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভঙ্গুর জ্বালানি ব্যবস্থা রাতারাতি পরিবর্তন করা কঠিন হলেও প্রধানমন্ত্রী মাত্র ছয় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তনের যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, তা কার্যকর হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো গ্যাসের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে কয়লা, বাতাস ও সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয়ে একটি টেকসই খাত গড়ে তোলা, যা বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৈশ্বিক আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বন্ধের বিধিনিষেধ সত্ত্বেও ২০২১ সালের আগের চুক্তির আওতায় পায়রা দ্বিতীয় পর্যায়ের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ দ্রুত শুরু করার বিষয়ে তাদের সঙ্গে সর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরই এই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর ওপর বাড়তি কোনো কর না চাপিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একইসঙ্গে বিদ্যমান চলমান কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যদি সঞ্চালন ও গ্রিড লাইনের অভাব তৈরি হয়, তবে সরকার নিজস্ব জিওবি তহবিল থেকে অর্থায়ন করে সেই গ্রিড লাইন বানিয়ে দেবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকার প্রতিটি সমস্যার টেকসই সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এই সংকটের উত্তরণ সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ